কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চুরির ঘটনায় সৃষ্ট দ্বন্দের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহ দুয়েক আগে দফাদারপাড়া এলাকায় আনিচুর রহমানের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আনিচুর ও প্রতিপক্ষ সিহাবের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে আনিচুর রহমানের লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ সিহাব ও তার লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষকালে দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের লোকজনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করতে থাকে। খবর পেয়ে দৌলতপুরের সেনা ক্যাম্পের সদস্য ও দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘর্ষে আনিচুর রহমান (৫৫), নবাব মাস্টার (৫০) ও আশরাফুল ইসলাম (৪৫)সহ ৩ ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ আনিচুর রহমানর অভিযোগ, দফাদারপাড়া এলাকার মৃত তফিলের ছেলে সিহাব (৫০), মজুদ্দিন দফাদারের ছেলে রিন্টু (২৬), সোহরাব উদ্দিনের ছেলে দোয়েল (২৫) ও জালাল (৪৫) সহ ৮-১০ জন তার বাড়িতে চুরি করে। এরপর থেকে তারা গা ঢাকা দেয়। পাশ্ববর্তী পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে সিহাব ও তার লোকজন অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে হানা দিলে তারা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে ৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও অনিচুর দাবি করেন।
গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এবং এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৩ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গোলাগুলির ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকলেও দফাদারপাড়া, পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।