বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা স্থগিতের দাবি

বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা স্থগিত চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সময় নিয়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

গতকাল সোমবার সংগঠনটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবির সঙ্গে আরও চারটি দাবি জানানো হয়েছে। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহসহ আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল পাঁচটি দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো বিতর্কিত ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ; ১৬ ফেব্রুয়ারির জরুরি পর্ষদ সভা স্থগিত; স্বার্থের সংঘাত ও স্বজনপ্রীতির নিরপেক্ষ তদন্ত; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং পেশাদারিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

কাউন্সিল নেতারা বলেন, ‘আমরা আজ নীরব থাকলে ভবিষ্যতে কেউ আমাদের সততা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। তাই আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা বাধ্য হয়েই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সোচ্চার হয়েছি।’

কাউন্সিলের নেতারা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় অল্প নোটিসে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি ওই সভার আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, যা আরও বিস্তৃত ও স্বচ্ছ আলোচনার দাবি রাখে।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন ও বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী মালিকানা কাঠামো এবং শেয়ার ধারণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে বড় ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত বলেও তারা মনে করেন।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণের উচ্চহার এবং কিছু ব্যাংকের তারল্যসংকটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের আগে এর প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাব্য প্রভাব ও ঝুঁকি গভীরভাবে মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়।