গাজীপুরের কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও তারা ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না।
জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের প্রায় ৫০০ এবং দ্বিতীয় বর্ষেরও প্রায় ৫০০ ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ক্লাস পরীক্ষা ও অতিরিক্ত ক্লাসের কথা বলে ৩০০ টাকা করে রসিদ ছাড়া আদায় করা হয়েছে।
কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য বোর্ড নির্ধারিত এক বিষয়ের ফি ১০০ টাকা। এ বছর প্রায় ২০০ অনিয়মিত পরীক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এক বিষয়ের জন্য বোর্ডের নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।
কলেজের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট বা রসিদ ছাড়া টাকা আদায়ের বিধান না
থাকলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ এ টাকা আদায় করেছে। নিয়ম অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের সব ফি রসিদের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা দেওয়ার কথা থাকলেও এসব টাকা কোনো রসিদ ছাড়া নগদ আদায় করা হয়েছে।
এ ছাড়া কলেজের কোনো রেজল্যুশন (কার্যবিবরণী) বা কলেজ কর্তৃপক্ষের সম্মতি নিয়েও এভাবে রসিদবিহীন টাকা আদায় অবৈধ।
স্থানীয়রা জানান, কলেজটিতে শিক্ষার মান নিম্নগামী, যার ফলে গত কয়েক বছর ধরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হচ্ছে।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ৬৫৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩৬ জনই ফেল করে রেকর্ড গড়েছিল। গত বছর ফেল করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ২০০ জন এবার নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নগদ টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। কিন্তু এই কলেজে নগদ কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। টাকা দেওয়ার বিষয়টি একাধিক ছাত্রছাত্রী নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা তাদের নাম পরিচয় জানাতে চাননি।
কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, মাস তিনেক আগে কলেজে ড. আক্তারুজ্জামান নামে একজন বিতর্কিত উপাধ্যক্ষ যোগ দেন। তিনি যোগদানের পর কলেজে এভাবে রসিদ ছাড়া এবং অতিরিক্ত টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গতকাল জানতে চাইলে ড. আক্তারুজ্জামান কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। আক্তারুজ্জামান এর আগে সাভার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন। সেখানে আওয়ামীপন্থি কর্মকা-, দুর্নীতি, অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত বছর জুলাই মাসে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ড. আখতারুজ্জামান একজন দুর্নীতিবাজ। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজে দায়িত্ব পালনের সময়ও অনিয়ম, দলীয়করণ ও প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারে জড়িত ছিলেন। সাভার সরকারি কলেজ থেকে তিনি বদলি হয়ে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজে যোগ দেন। তবে ড. আখতারুজ্জামান তখন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আতাউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এক বিষয়ে দুটি করে কোর্স। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোর্স প্রতি ৫০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়। যারা দুটি বিষয়ে ফেল করেছে তাদের কাছ থেকে ২০০ করে টাকা নেওয়া হচ্ছে। কলেজের কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে না।’
তবে কয়েকজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী জানান, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তাদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নির্বাচনী পরীক্ষার অজুহাতে তাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করেছে।