কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের টানা আট মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। দীর্ঘদিন বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন কর্মচারীরা। কেউ কেউ সংসার চালাতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকে মৌলিক চাহিদা পূরণ করতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মেসার্স মিথিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন ২৪ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী রয়েছেন। ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বাবুর্চি সহকারী, আয়া, মালী, দারোয়ান ও জরুরি বিভাগে কাজ করছেন কর্মরত-কর্মচারীরা। সরকার থেকে তাদের জন্য ১৬ হাজার টাকা বেতন বরাদ্দ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেতন দিচ্ছে ১২ হাজার টাকা।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে কথা হয় হোসনেয়ারা নামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার এক মেয়ে কলেজ আর এক ছেলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। আট মাস বেতন নেই, ছেলেমেয়ের স্কুল-কলেজের খরচও দিতে পারছি না। যে হাতে ভাত খাই, সেই হাত দিয়েই মানুষের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করি। ১২ হাজার টাকা বেতন পাই, তবু ঠিকমতো প্রতি মাসে বেতন পাই না।’
ফরিদা নামে কাজ করা আরেকজন বলেন, ‘আমি বাবুর্চির সহকারী হিসেবে অনেক দিন কাজ করছি। বেতন কত তা জানি না। ১২ হাজার টাকা পাই, তাও আজ সাত-আট মাস ধরে পাই না। সামনে রোজা, ছেলেদের নিয়ে কীভাবে সংসার চালাব সেই চিন্তায় আছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা ২৪ জনের মধ্যে ছয়জনকে অন্য উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কর্মরতদের বিষয়ে আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। বেতন বকেয়ার বিষয়টি ঠিকাদারকে বারবারই তাগাদা দিয়েও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। নিয়মমতো, ঠিকাদার প্রতি মাসে বেতন চালিয়ে যাবে, বরাদ্দ পেলে ঠিকাদার মন্ত্রণালয় থেকে পাস করিয়ে নেবে।’
ঠিকাদার রনি মিয়া বলেন, ‘দাউদকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪ জন লোক কাজ করে। মন্ত্রণালয় থেকে পাস না হওয়ায় তাদের সাত-আট মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।’ ১৬ হাজার টাকার স্থলে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বেতন পাস করাইতে বিভিন্ন অফিস খরচ আছে। তা আমাদেরই দিতে হচ্ছে। এ কারণে তাদের বেতন একটু কম দেওয়া হয়।’
কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘প্রতিটি কর্মচারীর বেতন ১৬ হাজার টাকা। বেতনের টাকা কম দেওয়ায় বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু কেউ লিখিত আবেদন দেয় না। লিখিতভাবে আমাদের জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’