টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। একাধিক তারকা ক্রিকেটারের অনুপস্থিতি, জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে অপ্রত্যাশিত হার এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথকে একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত— সব মিলিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে অজি টিম ম্যানেজম্যান্ট।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হতেই অস্ট্রেলিয়ায় সমর্থকদের ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ধারাভাষ্যকারদের কাছে একের পর এক বার্তা পৌঁছাতে থাকে। ক্ষোভের বড় লক্ষ্য ছিলেন অল-রাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন, যাকে অনেকেই দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য মনে করেননি। একই সঙ্গে স্মিথকে জরুরি ভিত্তিতে দলে ডেকে এনে বেঞ্চে বসিয়ে রাখাকে অনেক সমর্থক ‘অপমান’ বলে আখ্যা দেন।
সাবেক উইকেটরক্ষক ইয়ান হিলি সরাসরি বলেন, ‘এটা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের জন্য বাজে একটি মুহূর্ত। এক বছর আগে থেকেই দল নির্বাচনে ভুল দিকনির্দেশনা ছিল। তারা ব্যাটিং দক্ষতার চেয়ে শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে, আর দৃঢ়তার বদলে বাড়তি আত্মবিশ্বাসকে। গ্রিন তিনে, টিম ডেভিড চারে, ইংলিশ পাঁচে—এভাবে দল সাজানো হয়েছে। যে দলটা দাঁড়িয়েছে, তারা সবাই ফিনিশার, কিন্তু শুরু করার কেউ নেই।’
সাবেক অধিনায়ক মার্ক ওয়াহ দল নির্বাচনের সমালোচনা করে বলেন, ‘দেখুন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, কুপার কনোলি, গ্রিন আর জশ ইংলিস—সবাই ফর্মের বাইরে। ম্যাক্সওয়েল আর কনোলি তিন মাস ধরে রানই করতে পারেনি।’
বিশ্বমানের তিন বোলার না থাকাটা অজিদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। চোট বা অবসরের কারণে খেলতে পারেননি জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক এবং প্যাট কামিন্স। ফলে অল-রাউন্ডারদের দিয়েই বেশির ভাগ ওভার করাতে হয়, যাদের হিলি আখ্যা দেন ‘পার্ট-টাইমার’ হিসেবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বড় সংগ্রহ গড়েও শেষ দিকে ব্যাটিং ধস নামে। ৪ উইকেটে ১৬০ রান থেকে গুটিয়ে যায় ১৮১ রানে, যা দলের ভারসাম্যহীনতাই তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্কৃতিতে এখনও টেস্ট আর অ্যাশেজ সিরিজের গুরুত্বই সবচেয়ে বেশি। টি–টোয়েন্টিকে অনেক সময় গৌণ হিসেবেই দেখা হয়। বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান সফরেও পরীক্ষামূলক দল পাঠিয়ে সিরিজ হারে তারা, যা নিয়ে সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক মঈন খান মন্তব্য করেছিলেন, ‘মনে হচ্ছিল তারা শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে এসেছে।’
পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে স্মিথকে একাদশে না রাখা। ঘরোয়া টি–টোয়েন্টিতে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সত্ত্বেও তাকে সুযোগ না দেওয়াকে বিস্ময়কর বলেছেন মার্ক ওয়াহ। তার ভাষায়, ‘স্মিথকে না খেলানো স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর ঘটনা। কোন খেলোয়াড় ফর্মে আছে আর কে নেই— এটা বোঝার মতো বুদ্ধি তো থাকতে হবে!’
অনেকের মতে, ইনিংসের মাঝপথে স্থিরতা আনার জন্য ঠিক এমন সময়েই স্মিথের মতো ব্যাটার দরকার ছিল। সব মিলিয়ে চোট, ফর্মহীনতা, কৌশলগত ভুল আর দল নির্বাচন—চারটি কারণেই বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে বিদায় নিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। তবে রাত গভীরে সমর্থকদের ক্ষোভই বুঝিয়ে দিয়েছে—টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটকে তারা আর হালকাভাবে নিচ্ছে না।