৩ বলে ২ রান: বাংলাদেশের সেই দুঃসহ স্মৃতিই হার্দিকের ক্যারিয়ার গড়ে দিয়েছে

বাংলাদেশের ক্রিকেটের চিরন্তন দুঃখগাঁথার অংশ হয়ে আছে ২০১৬ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি। বেঙ্গালুরুতে বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ৩ বলে প্রয়েজন ছিল ২ রানের। হার্দিক পান্ডিয়ার করা চতুর্থ আর পঞ্চম বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়ে যান দুই ভায়রা-ভাই মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। অবিশ্বাস্য ১ রানের জয় পাওয়া সেই ম্যাচটিই হার্দিকের ক্যারিয়ার গড়ে দিয়েছে।

ভারতের তারকা অল-রাউন্ডার বলেছেন, ‘আমি মনে করি এই সব মুহূর্তই আমাকে আজকের মানুষ করে তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের প্রথম দিকে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলাম। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ক্রিকেটে, যদি মাত্র ১ শতাংশ সুযোগ থাকে তবেও খেলা শেষ বলে বিবেচিত হয় না যতক্ষণ পর্যন্ত শেষ বল না হয়েছে। বাংলাদেশ ম্যাচটা সেই ক্ল্যাসিক উদাহরণ।’

১০ বছর আগের সেই ম্যাচে তরুণ হার্দিক সেই শেষ ওভারে ১১ রান আটকাতে পেরেছিলেন, যদিও সেটা বাংলাদেশি ব্যাটারদের বোকামিতে। এ বিষয়ে হার্দিক বলেন, ‘শেষ বলের আগেই ব্যাটার এমনভাবে উদযাপন করছিল যেন ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে। সবই আমার চোখের সামনে ঘটছিল। এমন পরিস্থিতি যখন বদলে যায়, তখন সেটা অসাধারণ স্মৃতি তৈরি করে। আমার জীবনের সেই প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল এবং সেটা আমার ক্যারিয়ারকে গড়ে দিয়েছে।’

হার্দিক আরও জানান, নিজের বোলিং দক্ষতাকে সবসময় মেলে ধরতে পারলেও ব্যাটিংয়ে তিনি নিজেকে এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করতে পারেননি। এখন পর্যন্ত নাকি নিজের ব্যাটিং দক্ষতার মাত্র ৪০ শতাংশই কাজে লাগাতে। ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকেই উন্নতি করতে প্রতিদিন দীর্ঘসময় অনুশীলন করতে হয়েছে। এখনও সেটা তিনি করে যাচ্ছেন। মাঝে কিছুদিন তিনি ভারতের জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে দুপুর ৩:৩০ থেকে রাত ১২:৩০ পর্যন্ত অনুশীলন করেছেন।

হার্দিক বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই সবসময় বোলিংয়ের উপর বেশি ফোকাস করতাম। কিন্তু ব্যাটিংও আমার হৃদয়ের খুব কাছাকাছি ছিল। শেষ আইপিএলের পর আমি বুঝেছি, নিজের পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশ ঘটানো দরকার। আমি আমার ব্যাটিং পটেনশিয়ালের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যবহার করতে পারিনি- আর এটি আমার কাছে সত্যি বলেই মনে হয়। আমি বুঝেছি কীভাবে সেটা বের করে আনতে হবে।’