‘ভিনিকে কিছু বলিনি, ওরাই আমাকে হুমকি দিয়েছে’ -দাবি আর্জেন্টিনার প্রেস্টিয়ানির

ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে আবারও হানা দিয়েছে বর্ণবাদ বিতর্ক। বেনফিকার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের ১-০ গোলে জয় পাওয়া ম্যাচে প্রতিপক্ষ ফুটবলার দ্বারা বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। তবে অভিযুক্ত আর্জেন্টাইন তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানির দাবি, তিনি ভিনিকে কিছুই বলেননি। উল্টো তাকেই নাকি হুমকি দেওয়া হয়েছে!

মঙ্গলবার রাতে লিসবনে অনুষ্ঠিত নকআউট পর্বের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে জয় পায়। ম্যাচ চলাকালে ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন, প্রেস্টিয়ানি তাকে বর্ণবাদী ভাষায় অপমান করেছেন। তার দাবি, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড শার্ট দিয়ে মুখ ঢেকে ওই মন্তব্য করেন। রিয়ালের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও জানান, তিনি ওই মন্তব্য একাধিকবার শুনেছেন এবং ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ চুপ ছিলেন প্রেস্টিয়ানি। শেষ পর্যন্ত নিরবতা ভেঙে ইনস্টাগ্রামে তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, কোনো সময়ই আমি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য করিনি। তিনি ভুল বুঝেছেন। আমি কখনোই কারও প্রতি বর্ণবাদী আচরণ করিনি। রিয়াল মাদ্রিদের কিছু খেলোয়াড়ের কাছ থেকে আমি হুমকি পেয়েছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

বর্ণবাদের অভিযোগ ওঠার পর ম্যাচটি প্রায় ১০ মিনিট বন্ধ রাখতে হয় এবং ম্যাচ রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে বর্ণবাদবিরোধী প্রোটোকল কার্যকর করেন। তবে রেফারি বা ভিডিও সহকারী কেউই অভিযোগের নিশ্চিত প্রমাণ পাননি। বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রেস্টিয়ানির ওপর অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ভিনিসিয়ুসের গোল উদযাপন ঘিরে, যা বেনফিকার খেলোয়াড়দের কাছে উসকানিমূলক মনে হয়েছে। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। খোদ বেনফিকা কোচ হোসে মরিনহো বলেছেন, ভিনিসিয়ুসের উদযাপনেই সমস্যা ছিল! তাছাড়া বেনফিকা ক্লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেস্টিয়ানির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত হবে দুই দলের ফিরতি লেগের ম্যাচ।