বাদ পড়ার শঙ্কা উড়িয়ে সুপার এইটে পাকিস্তান

অস্ট্রেলিয়ার মতো প্রথম পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছিল পাকিস্তান। ভারতের কাছে হারের পর নামিবিয়াকে হারাতেই হতো তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টিকে থাকতে। সেটা তারা করতে পেরেছে। নামিবিয়াকে ১০২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ 'এ' থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সুপার এইটে উঠেছে পাকিস্তান। 

পাকিস্তানের চার স্পিনারের সম্মিলিত চাপে মূলত ভেঙে পড়ে নামিবিয়ার ইনিংস। মাঝের ওভারগুলোতে ম্যাচ চেপে ধরেন মোহাম্মদ নওয়াজ—চার ওভারে ২২ রানে নেন একটি উইকেট। এরপর শেষ সাত উইকেটের পতনে বড় ভূমিকা রাখেন শাদাব খান ও উসমান তারিক। শাদাব ছিলেন পাকিস্তানের জয়ের গতি বাড়ানোর মূল চরিত্র। ব্যাটিংয়ে তাঁকে পাঁচ নম্বরে পাঠানো হয়, বাবর আজমের আগেই। ফারহানের সঙ্গে শেষ ছয় ওভারে তাঁরা তোলেন ৭৮ রান। বল হাতে শাদাবের শিকার ১৯ রানে ৩ উইকেট। তবে সেরা সাফল্য রহস্যময় বোলার উসমান তারিকের। ১২তম ওভারে আক্রমণে এসে তারিক নামিবিয়ার শেষ দিকের ব্যাটারদের জন্য কার্যত দুর্বোধ্য হয়ে ওঠেন। ক্যারম বল ও দেরিতে ছাড়ানো লেগস্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা। ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪ ওভারে ১৬ রানে ৪ উইকেট নেন তিনি। 

শাহিন আফ্রিদির জায়গায় সালমান মির্জা এবং আবরার আহমেদের জায়গায় খাজা নাফায়কে দলে নিয়ে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। ফারহানের মারমুখী ব্যাটিংয়ে ৫ ওভারেই ৪০ রান তুলে ফেলে তারা। ষষ্ঠ ওভারের শুরুতে ১৪ রান করা সাইম আইয়ুব আউট হওয়ার পর সালমান আগা যোগ দিয়ে ৭ ওভারে ৬৭ রান যোগ করেন। ৩৮ রান করে সালমান আউট হন। এরপর সাধারণত বাবর আজম ব্যাট করলেও, তার জায়গা খাজা নাফায় কে খেলতে দেখা যায়। তিনি ৫ রানে আউট হওয়ার পরও বাবর আজমকে দেখা যায়নি। নামেন শাদাব খান এবং তাকে সঙ্গে নিয়েই ৭১ রানের জুটি গড়েন ফারহান মাত্র ৭ ওভারে। ২২ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত থাকেন শাদাব। 

৩৭ বলে ফিফটি করা ফারহান সেঞ্চুরি করেছেন ৫৭ বলে, যা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। শেহজাদের সেঞ্চুরিটি ছিল ৫৮ বলে। সেঞ্চুরির পথে ১১ চার ও চার ছক্কা মেরেছেন ফারহান। দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসেব টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। এর আগের সেঞ্চুরিটি ছিল আহমেদ শেহজাদের, ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১১১* রান করেছিলেন শেহজাদ। ফারহানের করা সেঞ্চুরিটি এবারের বিশ্বকাপে তৃতীয়। এর আগে সেঞ্চুরি করেছেন শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কা ও কানাডার যুবরাজ সিং সামরা।

সুপার এইটের সময়সূচী

তারিখ ম্যাচআপ ভেন্যু সময়
২১ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড – পাকিস্তান কলম্বো রাত ৭:৩০
২২ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড – শ্রীলঙ্কা পাল্লেকেলে বিকেল ৩:৩০
২২ ফেব্রুয়ারি ভারত – দক্ষিণ আফ্রিকা আহমেদাবাদ রাত ৭:৩০
২৩ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ে – উইন্ডিজ মুম্বাই রাত ৭:৩০
২৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড – পাকিস্তান পাল্লেকেলে রাত ৭:৩০
২৫ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ড – শ্রীলঙ্কা কলম্বো রাত ৭:৩০
২৬ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকা – উইন্ডিজ আহমেদাবাদ বিকেল ৩:৩০
২৬ ফেব্রুয়ারি ভারত – জিম্বাবুয়ে চেন্নাই রাত ৭:৩০
২৭ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড – নিউজিল্যান্ড কলম্বো রাত ৭:৩০
২৮ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান – শ্রীলঙ্কা পাল্লেকেলে রাত ৭:৩০
১ মার্চ জিম্বাবুয়ে – দক্ষিণ আফ্রিকা দিল্লি বিকেল ৩:৩০
১ মার্চ ভারত – উইন্ডিজ কলকাতা রাত ৭:৩০