২০০৪ সালে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়নি, তখন পাকিস্তানের গুজরানওয়ালা থেকে কানাডায় পাড়ি জমান সাদ বিন জাফর। ক্রিকেট নয়, মূল উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষা। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাদ জানান, তার বাবা–মা সবসময় পড়াশোনাকেই অগ্রাধিকার দিতে বলতেন। পরিবারের চাপে ক্রিকেট খেললেও পড়াশোনায় যেন প্রভাব না পড়ে— এটাই ছিল শর্ত।
দুই দশক পর সেই সাদই এখন চলমান বিশ্বকাপে কানাডার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং দলের অন্যতম প্রধান উইকেটশিকারি। বৃহস্পতিবার চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের আগে তার লক্ষ্য একটাই— দলের সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরা। জাতীয় দলের পাশাপাশি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেও খেলেছেন সাদ, যার মধ্যে ক্যারিবীয় লিগে খেলেছেন সেন্ট লুসিয়া জুকসের হয়ে।
পাকিস্তানে ১৯৮৬ সালে জন্ম নেওয়া সাদের জন্য ক্রিকেট ছিল শখের বিষয়। ক্লাব ক্রিকেট খুব বেশি খেলেননি, মূলত স্কুল পর্যায়েই খেলেছেন। পরে কানাডায় গিয়ে টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টরন্টোর লিগে খেলতে খেলতেই ২০০৮ সালে কানাডার হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার। তবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত দলে নিয়মিত জায়গা ছিল না। বারবার দলে ঢোকা–বেরোনোর মধ্য দিয়েই কেটেছে।
২০১৫ সালের পর ধীরে ধীরে তিনি দলের নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটারে পরিণত হন। চলতি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে উঠতে কানাডাকে নেতৃত্ব দেন সাদ। বর্তমানে অধিনায়ক না থাকলেও দলে তার দায়িত্ব কমেনি। বাঁহাতি স্পিনার ও নিচের দিকে ব্যাট করা অল-রাউন্ডার হিসেবে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দিতে চান তিনি এবং তরুণদের অভিজ্ঞতা দিয়ে গড়ে তুলতে চান।
২০২১ সালে পানামার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বিরল কীর্তি গড়েন সাদ। ৪ ওভারে কোনো রান না দিয়ে ২ উইকেট নেন, যা ইতিহাসে অন্যতম সেরা বোলিং স্পেল। কানাডায় ক্রিকেট এখনো পূর্ণকালীন পেশা হিসেবে স্বীকৃত নয়। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে খেলতেই একটি বিমা কোম্পানিতে বিশ্লেষক হিসেবে চাকরি করেছেন সাদ। দলের সফরে যেতে ছুটি নিতে হতো, কখনও দূর থেকে কাজও করেছেন। তবে সব প্রতিষ্ঠান এতটা সহযোগিতা করত না।
২০১৮ সালে একটি লিগের ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি ক্রিকেটে মন দেন সাদ। পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পড়াশোনার জন্য গেলেও তিন বছর পর তার পরিবার পাকিস্তানে ফিরে যায়। সাদ একাই কানাডায় থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। পরে তার চার ভাইবোনও কানাডায় চলে আসে। সাদ জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পরই পরিবারের মনোভাব বদলে যায়। তার বাবাও এখন ক্রিকেটে পুর্ণ সমর্থন দেন এবং ছেলের অর্জনে গর্ববোধ করেন।