চাঁদাবাজির তথ্য জানানো যাবে মির্জা ফখরুলকে

ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করলে সফল সমাজ গড়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিনটি স্তর একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের ট্যাক্সে চলি তাই জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব।’

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যাবলির উপস্থাপনা করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী।

মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মন্ত্রণালয়ের অধীনে দপ্তরপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে নিজ এলাকা ঠাকুরগাঁওয়ের চাঁদাবাজিসহ যেকোনো অপরাধের তথ্য জানতে ওয়েবসাইট চালু করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। ওই ওয়েবসাইটে সরাসরি তাকে সমস্যার কথা জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১-এর যেকোনো এলাকায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায়/অপরাধ বা যেকোনো সমস্যার কথা সরাসরি আমাকে আমার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানান।’ পোস্টে বলা হয়, ‘৭ জানুয়ারি ওয়েবসাইট উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে আমরা ইতিমধ্যে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমার টিম মেসেজ কম্পাইল করছে। শিগগিরই রেসপন্স করব।’

সচিবালয়ে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, ১৫ বছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্বল, অকার্যকর বা আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল, সেগুলো আবার সচল ও কার্যকর করতে সরকার এখন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা মানে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়; বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে এটি শুধু একটি আবেগের কথা নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবারই দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মানে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে যেন জনগণের কাছে যেতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষিত ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। তাই মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সর্বোপরি, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করলেই নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। একটি কল্যাণমুখী, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্র গঠনে এই মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ও আন্তরিক উদ্যোগই হতে পারে পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি।