রোজা রেখে শরীরচর্চা

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল

    ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

অ্যাডভাইজার স্পেশালিস্ট মেডিসিন (এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট), সিএমএইচ, ঢাকা রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় ইনসুলিন এবং ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। রোজা রেখে এমন ওষুধ গ্রহণকারীর শরীর চর্চা স্বাস্থ্যসম্মত কিনা এবং করলে কখন করবেন এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।

শুরুতেই বলা দরকার রোজা এবং শরীরচর্চা দুটোই একসঙ্গে চলতে পারে। তবে রোজা রেখে শরীরচর্চা করতে গেলে কতিপয় বিষয়ের ওপর অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

সুফল

না খেয়ে হাঁটতে থাকলে শরীরের চর্বি জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকে, যা প্রকারান্তরে ওজন কমাতে সাহায্য করে। শরীরের ওজন বাগে রাখার জন্য রোজা রেখে শরীরচর্চার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এ সময়ে সিমপ্যাথেটিক স্নায়ুগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীরচর্চার ফলে মস্তিষ্ক, স্নায়ুকোষ এবং পেশিকোষ সতেজ থাকে। এ কারণে রোজা রেখে শরীরচর্চা করলে শরীরে বাড়তি কিছু ইতিবাচক সুফল পাওয়া যায়।

কখন শরীরচর্চা করবেন

রোজার সময় তারাবিহ নামাজের পরে শরীরচর্চা সবচেয়ে উত্তম। এ ছাড়া ইফতারের পরে ও শরীরচর্চা করা যেতে পারে। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিংবা ইনসুলিন গ্রহণ করছেন তাদের ক্ষেত্রে ইফতারের এক দুই ঘণ্টা পূর্বে শরীরচর্চা না করাই উত্তম। তবে সুস্থ সবল মানুষের জন্য ইফতারের পূর্বে শরীরচর্চা করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।

কোন ধরনের শরীরচর্চা উত্তম

রোজা রেখে হালকা ও মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা করা যেতে পারে। হাঁটা, ধীরগতিতে জগিং করা, ওজন উত্তোলন করা, সাঁতার কাটা, সাইক্লিংয়ের মতো মৃদু মাত্রার ব্যায়াম করতে কোনো বাধা নেই। পেশিশক্তি বর্ধক ব্যায়াম রোজার সময় বেশি উপযোগী। মনে রাখা দরকার তারাবিহ নামাজ কিন্তু একটি উত্তম শরীরচর্চা।

অতিরিক্ত শরীরচর্চা অনুচিত

যেসব শরীর চর্চায় হৃদস্পন্দনের গতি মিনিটে ১৫০-এর বেশি হয় সে ধরনের শরীরচর্চা রোজা রেখে করা অনুচিত।

এ ছাড়া ইফতারের পূর্বে ডায়াবেটিস রোগীদের অতিরিক্ত শরীরচর্চা না করাই উত্তম।

লক্ষণীয় বিষয়

গরমের সময় শরীরচর্চা করলে যথেষ্ট পরিমাণ পানি ও লবণ ঘাটতি হতে পারে। পানিশূন্যতা সৃষ্টি হলে শরীরের জন্য তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানির ঘাটতি পূরণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পানির উৎস শুধু ট্যাপের পানি নয়। ফলমূল পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কমলা, আঙ্গুর, মালটা, টমেটো, শসা ইত্যাদি পানির অন্যতম উৎস। খাদ্যতালিকায় এসব ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ইফতারের পর থেকে সাহরির পূর্ব পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করে শরীরে যথেষ্ট পানি ধরে রাখতে হবে।

খেয়াল রাখুন

রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা খুব কমে গেলে (৩.৯ মিলি মোল/ লিটার) কিংবা অত্যধিক বেড়ে গেলে (১৬.৯ মিনি মোল/ লিটার) শরীরচর্চা পরিহার করতে হবে। এমনকি এমতাবস্থায় রোজা ভেঙে ফেলতে হবে।