রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর জন্য

মনোজ মাহমুদ

রিফ্লেক্সলজিস্ট ও আকুপ্রেশার এক্সপার্ট

পবিত্র রমজান আত্মসংযমের মাস, কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি হতে পারে শারীরিক চ্যালেঞ্জের সময়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, খাবারের সময় ও ধরনে পরিবর্তন হওয়া। সব মিলিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যেতে পারে। তাই সচেতন পরিকল্পনা ছাড়া রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, সুষম খাদ্য নির্বাচন, পর্যাপ্ত পানি পান এবং ওষুধ বা ইনসুলিনের সঠিক সময় নির্ধারণ এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি ও নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থাকলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিরাপদে রমজানের ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকতে পারেন।

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি

লো ব্লাড সুগার : দীর্ঘ সময় না খেলে মাথা ঘোরা, ঘাম, কাঁপুনি, দুর্বলতা হতে পারে।

হাই ব্লাড সুগার : ইফতারে অতিরিক্ত মিষ্টি/ভাজা খেলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায়।

ডিহাইড্রেশন : রোজায় পানি কম খেলে কিডনি ও হার্টে চাপ পড়তে পারে।

ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যতা হারায় : বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের জন্য ওষুধ খান।

রমজানের আগের প্রস্তুতি

ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ বা ইনসুলিনের সময় ঠিক করুন। রমজান শুরুর আগে HbA1c ও ফাস্টিং সুগার জানা থাকলে ভালো। পানি খাওয়ার অভ্যাস বাড়ান। চা বা কফি কমান। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটা। রমজানে ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

সাহরিতে কী খাবেন

লো GI খাবার : আটার রুটি, ওটস, ডাল, শাকসবজি। প্রোটিন : ডিম, মাছ, দই।

পানি : পর্যাপ্ত পরিমাণ।

এড়িয়ে চলুন : চিনি, মিষ্টি, বেশি পরিমাণ সাদা ভাত, অতিরিক্ত লবণ, ভাজাপোড়া, সফট ড্রিংক।

ইফতারে কী খাবেন

রোজা ভাঙুন : পানি ও ১টি খেজুর। সবজি স্যুপ (বিনা ক্রিম) বা ছোলা সিদ্ধ অর্ধেক আপেল বা পেয়ারা। কাঁচা সালাদ।

রাতের খাবার (তারাবির পর) : ১টি আটার রুটি বা অল্প ভাত। মাছ বা ডাল বা চিকেন সবজি, পানি।

প্রতিদিনের রুটিন ঠিক রাখুন

ঘুম : ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা (প্রয়োজনে দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিট)। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সময় ঠিক করে নিন। ইফতারের বা তারাবির পর ৪০মিনিট  থেকে ১ ঘণ্টা পরে হালকা হাঁটা। ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। চা বা কফি কম পান করবেন। এ ধরনের পানীয় ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। ভাজাপোড়া ও মিষ্টি সীমিত পরিমাণে খেতে হবে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বাদ দিতে হবে।

বিপদ সংকেত চিনে রাখুন

লো সুগার লক্ষণ : ঘাম, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা। হাই সুগার লক্ষণ : অতিরিক্ত তৃষ্ণা, প্রস্রাব।

ব্লাড সুগার মনিটরিং করবেন

সাহরির আগে ও ইফতারের আগে। এ ছাড়া দুর্বল লাগলে সঙ্গে সঙ্গে মনে রাখবেন : রোজায় সুগার মাপলে রোজা ভাঙে না।

কখন রোজা ভেঙে ফেলবেন

ব্লাড সুগার <3.9mmol/l। মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব, বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা। ইসলামেও স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে রোজা ভাঙা অনুমোদিত, এটা গুনাহ নয়।

আকুপ্রেশার ও রিফ্লেক্সলজির কার্যকারিতা

হাই সুগার কমাতে সহায়ক। ইনসুলিন কার্যকারিতা বাড়ায়। হজম শক্তিশালী। এনার্জি বাড়ায়। সুগার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ

কখন ও কীভাবে করবেন

সকালে খালি পেটে। রাতে ঘুমানোর আগে।  প্রতিদিন ১ থেকে ২ বার চাপ হবে সহনীয় কিন্তু ব্যথাহীন। ২ মিনিট (হালকা চাপ)।