৫০ বছরেরও বেশি সময় পর চাঁদে মানুষের ফেরার প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। কারিগরি ত্রুটির কারণে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় নাসার বহুল প্রতীক্ষিত ‘আর্টেমিস-২’ মিশন স্থগিত করা হয়েছে। বিশালকার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটে হিলিয়াম প্রবাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় মার্চ মাসে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা বাতিল করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান।
আইজ্যাকম্যান জানান, রকেটের ইঞ্জিন পরিষ্কার এবং জ্বালানি ট্যাঙ্কে চাপ বজায় রাখার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে সেখানে যান্ত্রিক গোলযোগ শনাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বুঝতে পারছি মানুষ এই খবরে হতাশ। তবে সবচেয়ে বেশি হতাশ নাসার সেই কর্মীরা যারা এই মহৎ উদ্যোগের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।
তিনি আরও জানান, একটি ত্রুটিপূর্ণ ফিল্টার, ভালভ বা সংযোগ প্লেটের কারণে এই সমস্যা হতে পারে। সমস্যাটি খতিয়ে দেখতে এবং মেরামতের জন্য এসএলএস রকেট ও ওরিয়ন মহাকাশযানটিকে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের অ্যাসেম্বলি বিল্ডিংয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হবে।
মার্চের উইন্ডো হাতছাড়া হওয়ায় এখন এপ্রিলের শুরু বা শেষের দিকে উৎক্ষেপণের পরবর্তী সুযোগ খুঁজছে নাসা। অথচ মাত্র একদিন আগেই আগামী ৬ মার্চ উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত বছর ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে চীনের আগে চাঁদে পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই মিশনটি ত্বরান্বিত করার ঘোষণা দিয়েছিল নাসা। কিন্তু শুরু থেকেই এটি নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এর আগে, ২০২২ সালে আর্টেমিস-১ মিশনটিও একাধিকবার পেছানোর পর সফল হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তরল হাইড্রোজেন লিক হওয়ার কারণে একটি মহড়া মাঝপথে বন্ধ করতে হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্র যখন পুনরায় চাঁদে মানুষ পাঠানোর চেষ্টা করছে, তখন চীনও তাদের লক্ষে অটল। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে ক্রু পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বেইজিং। এছাড়া ২০২৬ সালে চীনের চালকবিহীন ‘চেঞ্জ-৭’ মিশন চাঁদের দক্ষিণ মেরু অভিযানে যাওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরেই তাদের নতুন মহাকাশযান ‘মেংঝু’-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হতে পারে।
১০ দিনব্যাপী এই মিশনে চাঁদের চারপাশ প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবে চার সদস্যের একটি দল। এই দলে রয়েছেন মার্কিন নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এটি হবে মানব ইতিহাসের সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণ।
নাসা জানিয়েছে, আর্টেমিস-২ মূলত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলে মানব অভিযানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই মিশন সফল হলে ২০২৮ সালে ‘আর্টেমিস-৩’ এর মাধ্যমে সরাসরি চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।
সূত্র: আল-জাজিরা