ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। গতকাল রবিবার তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। পাশাপাশি তার মূল পদউন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক পদে ফিরে যাওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা ও নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাত শিক্ষকের নাম এসেছে আলোচনায়।
সূত্র জানায়, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর আগে নির্বাচনের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি উপাচার্য বলেছিলেন, ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি দূর হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক ক্ষেত্রে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমি এখন মনে করছি, দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটা ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।’
ঢাবি উপাচার্য আরও বলেছিলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াতে চাই যেন রাজনৈতিক সরকার তার মতো করে তার প্রশাসন সাজিয়ে দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে যদি তাদের আমার কোনো সহযোগিতা দরকার হয়, আমি যেকোনো সময় প্রস্তুত আছি।’
এদিকে ড. নিয়াজ আহমদ খানের পদত্যাগপত্র সরকার গ্রহণ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে নতুন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদত্যাগপত্র গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। অবশ্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা ও নানা তৎপরতা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, উপাচার্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে পাঁচজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ঘিরে আলোচনা জোরালো হয়েছে। তারা হলেন, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।
অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর সভাপতি এবং ঢাবি সাদা দলের সাবেক আহ্বায়ক।
অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও অতীতে ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ছিলেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বর্তমানে কলা অনুষদের ডিন এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন।
অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান সাদা দলের বর্তমান আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের মহাসচিব। পাশাপাশি তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা সম্পাদক এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
উপাচার্য পদে আলোচনায় রয়েছেন দুই নারী শিক্ষকের নামও। অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি)। তিনি ঢাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে। এ ছাড়া তিনি ঢাবি সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী অধ্যাপক ড. তাহমিনা আখতার (টফি)। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সমাজকর্ম ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন। তিনি ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্ক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ কাউন্সিল ফর সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশনের মহাসচিব। রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে প্রায় তিন বছরের জন্য চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। নব্বইয়ের দশকে তিনি ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের প্রথম ভিপি নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত।