নতুন ৩ কূপে দিনে মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে খনন করা হচ্ছে নতুন তিনটি কূপ, যার একটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ। নতুন এসব কূপ থেকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের আশা করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) কর্তৃপক্ষ। এর মাধ্যমে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা যেমন বাড়বে, ঠিক তেমনি চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরে খনন চলছে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপের। এর মাধ্যমে প্রথাগত গ্যাস অনুসন্ধানের সীমা পেরিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করছে গভীর গ্যাস অনুসন্ধানের নতুন অধ্যায়ে। জ্বালানি সংকটের মাঝে যা আশার আলো ছড়াচ্ছে। তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের এই কূপ এলাকায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ থাকার আশা সংশ্লিষ্টদের। দেশের সবচেয়ে উচ্চচাপ ও উচ্চতাপসম্পন্ন ৩১ নম্বর কূপটি ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন শুরু হয় চলতি বছরের গত ১৯ এপ্রিলে। ইতিমধ্যে খনন হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার। চলতি বছরেই কূপটির খনন সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার আশা বিজিএফসিএলের। বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীর থেকে। তবে বিদ্যমান কূপগুলোতে গ্যাসের মজুদ এবং চাপ কমার ফলে উৎপাদনও কমেছে। এ অবস্থায় তিতাসের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপের খনন প্রকল্প নিয়েছে বিজিএফসিএল। এর মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, খননকাজটা সফলভাবে শেষ করতে পারলে গড়ে এই তিনটা কূপ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে। ২৯ নম্বর কূপটা খনন সম্পন্ন হলে ৩০ নম্বর কূপটা খননে যাব। একই রিগ দিয়ে ৩০ নম্বর কূপ খনন হবে। ২৯ নম্বর কূপ ২ হাজার ৮৬০ মিটার খনন হয়েছে, কোনো কারিগরি জটিলতা না থাকলে আগামী দুই মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে এ তিনটা কূপ আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাবে।

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, আমরা তিতাসে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত খনন করেছি। এর নিচে কী আছে এটা আমরা জানি না। ১৯৬৯ সালে এই ৩৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত যায়, তখন কিন্তু ৩৬০০ মিটারে একটা হাইপ্রেশার জোন এনকাউন্টার করে। এই কারণে কিন্তু আমাদের নিচে যাওয়া হয়নি। এই কূপটার বিশেষত্ব হলো এটা হচ্ছে একটা গভীর অনুসন্ধান কূপ এবং যেটা হাইপ্রেশার হাই টেম্পারেচার বিভিন্ন জোন অতিক্রম করে যাবে এবং তিতাসের ৩৭০০ মিটার থেকে ৫৬০০ মিটার গভীরে আরও কোনো গ্যাসের উপস্থিতি আছে কিনা জানা যাবে। সিসমিক স্ট্যাডির ভিত্তিতে বলা যায়, এখানে ২ টিসিএফের মতো গ্যাস থাকতে পারে। এই উদ্দেশ্যেই এই খননটা সম্পন্ন করা। তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোতেও উৎপাদন বাড়াতে বন্ধ কূপ ওয়ার্কওভার এবং নতুন আরও কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণের কথা জানান বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক। তিনি বলেন, আমরা আগামী ছয় মাসে এই তিনটি কূপ থেকে উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দিতে পারব। আমাদের চাহিদার তুলনায় এই গ্যাস যে খুব বেশি তা বলা যাবে না। তবে অবশ্যই এটা আমাদের দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা এই পরিমাণ গ্যাস এলএনজি থেকে কাট করতে পারব। এলএনজি যে বেশি দামে কেনা হচ্ছে, সেখান থেকে সরকার একটা স্বস্তির জায়গায় যাবে। এখানে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট গ্যাস ১ টাকা মূল্যে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। যেটা এলএনজি ফর্মে আনতে গেলে প্রায় ৭০ টাকা ৮০ টাকা লাগবে। ফলে ৪৫ মিলিয়ন গ্যাস কিন্তু আর আমাদের বাইরে থেকে আনতে হবে না। ১৯৬২ সালে তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি। এরপর ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় দেশের সবচেয়ে বড় এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত