অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ

আসিফ মাহমুদ দম্পতির তথ্য চেয়ে দুদকের চিঠি

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থ পাচার ও শেল কোম্পানিসহ দেশ-বিদেশে থাকা সম্পদ অর্জনের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিএফআইইউর পরিচালকের দপ্তরে এ চিঠি পাঠান দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।

চিঠিতে বলা হয়,  অন্তর্বর্তী সরকারে সাবেক উপদেষ্ট আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান চলমান। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস, ঋণ হিসাব এবং পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি ক্রয়, অর্থ পাচার, শেল কোম্পানি গঠন সংশ্লিষ্ট তথ্য ও রেকর্ডপত্র দরকার। বিএএআইইউ-সদৃশ প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ওই দেশে বিনিয়োগ ও ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্যাদি সরবরাহে প্রয়োজনীয় গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান কাজ পরিচালনার জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। অভিযোগ অনুসন্ধানে চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক। ইতিমধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুদকে এসে পৌঁছায়।

এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। নতুন অভিযোগগুলো আগের চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

 নতুন আসা অভিযোগে বলা হয়েছে, আসিফ ভূঁইয়া দুর্নীতির অর্থ দিয়ে পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করা হয়েছে। দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় দুই হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে তার চার দেশে পাচারের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া তার দুই বোনজামাই ও এক ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। সারা দেশে ৩৬ ডিসি পদায়নে দুই কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার-বাণিজ্যে আসিফের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০-৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণ; নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডারে দুর্নীতি; গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া; তার নিজ উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা ঘুষগ্রহণ, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খানকে নিয়োগ দিয়ে ৫২ কোটি টাকা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিয়ে ৬৫ কোটি টাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ৬০ কোটি টাকা নিয়েছেন। তিনি এই চার পদে নিয়োগ দিয়ে ১৮৭ কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়, হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচতারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে থাকা ও দামি গাড়িতে চলাফেরা করার অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত