ঈদের পরেই বেতন পাবেন জাতীয় দলের ক্রীড়াবিদরা

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও পেশাদার ও গতিশীল করতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত তিন ঘণ্টার এক দীর্ঘ সভায় তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ফুটবল ও ক্রিকেট বাদে অন্যান্য খেলার ক্রীড়াবিদদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট দূর করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী।  জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা খেলোয়াড়দের দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় আনার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। এই লক্ষ্যে প্রতিটি ফেডারেশনের কাছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকা চাওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে রোজার মধ্যেই কর্মপরিকল্পনা সম্পন্ন করে ঈদের পরপরই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসিসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

ফেডারেশনগুলোর জন্য 'সাত দিনের' সময়সীমা

ক্রীড়াঙ্গনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করতে প্রতিমন্ত্রী ফেডারেশনগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন: গত এক বছরের কাজের মূল্যায়ন (সাফল্য ও ব্যর্থতা) এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা লিখিত আকারে জমা দিতে সাত দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করা এবং প্রতিটি খেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

'আমরা খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। যারা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনে, তাদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে এই বেতন কাঠামো জরুরি', বলেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। 

ফেডারেশনগুলোর সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তাড়াহুড়ো না করে পরিকল্পিত নির্বাচনের কথা বলেছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়াটি উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় স্তর পার করে ফেডারেশন পর্যায়ে সম্পন্ন করা হবে।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন

যেসব খেলা আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে দেশের জন্য বেশি সুনাম বয়ে আনতে সক্ষম, সেগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার কথা বলেছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর। অপ্রচলিত খেলাগুলোকে সক্রিয় করতে স্কুল পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় উপস্থিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ প্রতিমন্ত্রীর এই ভিশনের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন এবং বিস্তারিত আলোচনার জন্য ছোট পরিসরে (৫টি ফেডারেশন করে) নিয়মিত বৈঠকের প্রস্তাব দেন। সমস্যা ও সমাধানের পথ আরও সুচারুভাবে নির্ধারণ করতে আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও সভা করার কথা রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর।