মৌমাছি বাঁচলে মানুষ বাঁচবে

পৃথিবী থেকে সব মৌমাছি অদৃশ্য হলে, মানুষ মাত্র চার বছর বাঁচবে। কথাটি বলেছিলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন। কারণ, ফুল ও ফসলের জন্য মৌমাছি অপরিহার্য। এরা কমে গেলে অর্থনীতিতে সমস্যা দেখা দেবে। কিছু ফসল বড় পরিসরে চাষ হবে ব্যয়বহুল। মৌমাছির সংখ্যা হ্রাস পেলে, মাংস এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন প্রভাবিত হবে। একটা মৌচাকে মৌমাছির সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে এরা নতুন রানী মৌমাছি সৃষ্টি করে। তখন পুরাতন রানী প্রায় ৬০ শতাংশ ‘কর্মী মৌমাছি’ নিয়ে ওই চাক ছেড়ে বেরিয়ে আসে এবং নতুন কলোনি তৈরি করে। রানী মৌমাছি প্রয়োজন অনুসারে, ডিম নিষিক্তের জন্য শুক্রাণু সংরক্ষণ করে ৫-৭ বছরের জন্য। দ্বিতীয় রানী মৌমাছি মৌচাকে ফিরে গিয়ে, এই সংরক্ষিত শুক্রাণু ব্যবহার করে হাজার হাজার ডিম পাড়ে। ডিম থেকে লার্ভা, লার্ভা থেকে পিউপা এবং পিউপা প্রাপ্তবয়স্ক মৌমাছিতে রূপান্তরিত হয়। ডিম থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া কর্মী মৌমাছির আয়ু মাত্র ২১ দিন।  মৌমাছি ফুলে হুল ফুটায় না। প্রোবোসিস ব্যবহার করে তারা ফুল থেকে রস টেনে নেয়। এরপর পেটে সংরক্ষণ করে। তারপর রস মধুতে পরিণত হয়। এভাবেই মৌমাছি আমাদের পুষ্টি নিশ্চিত করে। সুতরাং, বোঝা যাচ্ছে অর্থনীতিতে কী ধরনের অবদান রাখছে মৌমাছি।