‘আমগোর মতো নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের লাগি (জন্য) গরুর মাংস খাওয়া এখন ভাগ্যের ব্যাপার। বাজারে যে দাম! প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৭৫০ এমনকি ৮০০ টেহা (টাকা)। নিজেরা গোস্ত খাওনের লাগি চিন্তা করি না, কিন্তু পোলাপান (ছেলেমেয়ে) কি আর দরদাম মানে? ওরা এক টুকরা গোস্ত পাইলে খুশি অয় (হয়), ভাত কয়ডা বেশি খায়। ওদের খুশিই তো বাপ-মায়ের খুশি। কিন্তু রোজায় গরুর গোস্তের যে দাম, মনে করছিলাম এইবার রোজায় আর গোস্ত খাওন যাইত না। হঠাৎ শুনলাম এমপি বাবু নাকি কম দামে গোস্ত দিতাছে। পরে ব্যাগ নিয়ে আইসা এক কেজি গোস্ত লইছি ৬৫০ টেহা দিয়া। এতে বাজারের তুলনায় আমার কেজিতে ১০০ থেকে ১৫০ টেহা কম লাগছে। আমগোর লাগি ১০০ টেহা কম মানে মেলা (অনেক) কিছু। বাড়তি (বেঁচে যাওয়া) ১০০ টেহা-পয়সায় ইফতারের জন্য কিছু কিনবাম। আমগোর এমপি সাবরে আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখুক।’
পবিত্র রমজান উপলক্ষে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সুলভ মূল্যের হাট থেকে এক কেজি গরুর মাংস কিনে ব্যাগ হাতে বাড়ি ফেরার পথে কথাগুলো বলছিলেন আমেনা খাতুন (৫২)।
রমজান উপলক্ষে ময়মনসিংহ-৮ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুর সহযোগিতায় এবং ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনে গতকাল সোমবার থেকে ঈশ্বরগঞ্জে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় একজন ক্রেতা এক কেজি গরুর মাংস ৬৫০ টাকায় ক্রয় করতে পারছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজানে দ্রব্যমূল্য জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রির ভ্রাম্যমাণ বাজার বসানো হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকায় কেনা তিনটি ষাঁড় জবাই করে ভর্তুকি মূল্যে সাড়ে পাঁচ শতাধিক মানুষের মধ্যে বিক্রি করা হয়েছে। সুলভ মূল্যে গরুর মাংস কিনতে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের ছিল দীর্ঘ লাইন। প্রথম দিনে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ভর্তুকি দিয়ে তিনটি গরুর মাংস বিক্রি করা হয়।
ভর্তুকি মূল্যে গরুর মাংস বিক্রির উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাউদ্দিন বিশ্বাস, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি একেএম হারুন অর রশিদ প্রমুখ। সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু বলেন, ‘রাজনীতি হোক মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আমার ঈশ্বরগঞ্জের কোনো পরিবার যেন রমজানে মাংসের স্বাদ থেকে বঞ্চিত না থাকে এটাই আমি চাই। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই আমি উদ্যোগ নিয়েছি।’