ঋতুপর্ণাদের মতো বেতন পাবেন হামজা-জামালরা 

জাতীয় দলের নারী ফুটবলারদের পাশাপাশি এবার পুরুষ ফুটবলারদেরও বেতন কাঠামোর আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সাথে ফুটবলারদের দীর্ঘদিনের আবাসন ও অবকাঠামো সংকট নিরসনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়াম বাফুফের হাতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়।

বর্তমানে দেশের পুরুষ ফুটবলাররা মূলত ক্লাব থেকে অর্থ উপার্জন করলেও জাতীয় দলে খেলার জন্য তাদের কোনো স্থায়ী বেতন নেই। বাফুফের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ক্যাম্প চলাকালীন অত্যন্ত সামান্য অর্থ পেতেন তারা। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এই বৈষম্য দূর করতে চান। বলেছেন, 'মেয়েদের ফুটবলাররা যেভাবে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুরুষ ফুটবলারদেরও প্রণোদনার আওতায় আনা হবে। পুরুষ ও নারী উভয় দলের ফুটবলারদের মাসিক ভিত্তিতে সরকারি চুক্তির আওতায় এনে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।'

বৈঠক শেষে কথা বলছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, পাশে বাফুফে সভাপতি

ফুটবলে অবকাঠামো সংকট রয়েছে। সেই সংকট দূর করতে পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'ফিফার অনুদানের আওতায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন কয়েকটি মাঠ ব্যবহারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে তিনটি মাঠ আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমলাপুর স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম- এই তিনটি ভেন্যুই চুক্তির ভিত্তিতে বাফুফের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হবে। খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।'

বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন আমিনুল। বলেন, 'আমাদের বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে এরই মধ্যে ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে একটি ক্যালেন্ডার চেয়েছি। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে ফুটবলকে এগিয়ে নিতে একটি বাৎসরিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো আমরা করব। বিশেষ করে গত অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি যে, আমাদের জেলা পর্যায়ে লিগগুলো হয় না। যদিও গত বছর থেকে আমাদের আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সেটাকে আমরা স্থায়ীভাবে প্রত্যেক জেলায় জেলায় লিগ চালাতে চাই। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।'

সরকারের এই তড়িৎ এবং কার্যকর সিদ্ধান্তে খুশি বাফুফে নেতৃত্ব। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম এই সহযোগিতাকে দেশের ফুটবলের জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে মাঠগুলো হাতে পেলে খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প এবং অনুশীলন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।