পাকিস্তানকে খাদের কিনারায় ঠেলে সবার আগে সেমিতে ইংল্যান্ড

প্রথম দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে গেছে ব্রুকের দল। 

পাকিস্তানের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য ইংল্যান্ড তাড়া করেছে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের সেঞ্চুরির কল্যাণে। ৫০ বলে সেঞ্চুরি করা ব্রুক যখন আউট হন তখন ইংল্যান্ডের জিততে দরকার ১৮ বলে ১০ রান। কিন্তু ইংল্যান্ড ৫ রানের ব্যবধানেই যে হারিয়ে ফেলে ৩ উইকেট।

শেষ ওভারে সালমান মির্জার বিপক্ষে দলটির দরকার ছিল ৩ রান। প্রথম বলেই চার মেরে দেন জোফরা আর্চার।

এই হারে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ায় শঙ্কায় পড়লো পাকিস্তান। তাদের পয়েন্ট মাত্র ১। শ্রীলঙ্কার সংগে শেষ ম্যাচে জিতলেও সেমিতে ওঠার দৌড়ে থাকতে পারবে কিনা সন্দেহ।  

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরি

ইংল্যান্ডের ওপেনাররা আবারও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। ফিল সল্ট শাহীন শাহ আফ্রিদির প্রথম বলটি সুইং করবে ভেবে খেলার চেষ্টা করেন, কিন্তু বল সোজা থাকায় ব্যাটের কোণায় লেগে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন। জস বাটলারের অফ-ফর্মও কাটেনি; মাত্র ২ রান করে ব্যাটের নিচের দিকে লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তবে হ্যারি ব্রুক ছিলেন অসাধারণ ছন্দে। সালমান মির্জাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারার পর পাওয়ার-প্লের শেষ ওভারে মোহাম্মদ নওয়াজকে তুলোধুনো করে ১৭ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

হ্যারি ব্রুক

মাঝের ওভারগুলোতে ব্রুক দারুণভাবে নিজের পা ব্যবহার করেন। শাদাব খানকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা এবং লেগ সাইড দিয়ে চার মারেন। বিপজ্জনক উসমান তারিককেও তিনি বেশ সতর্কতার সাথে সামলেছেন। আফ্রিদির বলে টানা এক চার ও এক দুই রান নিয়ে তিনি তার সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। যদিও ঠিক পরের বলেই ইয়র্কারে বোল্ড হন, তবে প্রতিপক্ষ ফাস্ট বোলার শাহীন আফ্রিদি এগিয়ে এসে তাকে অভিনন্দন জানান এবং করমর্দন করেন।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম ৪ নম্বরের ওপরে অর্থাৎ ৩ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামেন ব্রুক। এই পরিবর্তন স্থায়ী হবে কি না তা শীঘ্রই বোঝা যাবে। তবে ব্রুক জানান, ইংল্যান্ড কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালামই তাকে এই প্রেরণা দিয়েছিলেন। ব্রুক বলেন, "সবই ছিল বাজের (ম্যাককালামের ডাকনাম) পরিকল্পনা। আজ সকালে সে আমার কাছে এসে বলল, 'দেখো, আমরা আজ ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা পরিবর্তন এনে তোমাকে ৩ নম্বরে পাঠাতে পারি'।"

ফারহান বনাম ইংল্যান্ডের বোলিং

পাকিস্তানের ইনিংসের একমাত্র আশার আলো ছিলেন সাহিবজাদা ফারহান। এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে তিনিই হাফ-সেঞ্চুরি করতে পেরেছেন। ৫ ইনিংসে ২৮৩ রান নিয়ে তিনি বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবে পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক শাদাব খানের রান মাত্র ১১১, যা দলের ব্যাটিংয়ের কঙ্কালসার অবস্থাই তুলে ধরে।

প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই উইকেট হারায় পাকিস্তান। সাইম আইয়ুব জোফরা আর্চারের বলে ভুল শট খেলে আউট হন এবং টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বারের মতো পাওয়ার-প্লেতে বল করতে আসা লিয়াম ডসনের বলে সালমান আঘা ক্যাচ তুলে দেন। তবে ইনিংসের মাঝপথে খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। ফারহান ও বাবর আজম তৃতীয় উইকেটে ৪৪ বলে ৪৬ রান যোগ করেন।

বাবর আজম আউট হওয়ার পর ফারহান ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। উইল জ্যাকসকে ১০০ মিটারের বিশাল ছক্কা মারেন তিনি। ৩৭ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর জ্যামি ওভারটনকে ছক্কা ও চার মেরে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু একটি ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়লে পাকিস্তানের রানের গতি আবারও থমকে যায়।

সুপার এইট পর্বে দলে ফেরা ফখর জামান দুটি ছক্কা হাঁকালেও আদিল রশিদের বলে লিয়াম ডসনের হাতে ধরা পড়েন। রশিদ তার ভেরিয়েশন দিয়ে পাক ব্যাটারদের বেশ ধন্দে ফেলেছিলেন। লিয়াম ডসন ডেথ ওভারেও ছিলেন কিপটে; ১৮তম ওভারে পর পর দুই উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ১৬৪ রানেই আটকে দেন।