গভর্নরের সমালোচনাকারী ৩ কর্মকর্তা বদলি

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সমালোচনাকারী কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মকর্তা গভর্নরের বিভিন্ন কর্মকা-ের সমালোচনা করেছেন। বদলি হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ও এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ।

তাদের মধ্যে নওশাদ মোস্তফাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বরিশাল অফিস, মাসুম বিল্লাহকে রংপুর ও গোলাম মোস্তফা শ্রাবণকে বগুড়া অফিসে বদলি করা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তারা গভর্নরকে ‘স্বৈরাচার’ আখ্যা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক একীভূতকরণ, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগসহ একাধিক ইস্যুতে প্রশ্ন তোলেন। এ ঘটনায় ওই তিন কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তাদের ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বলা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।

জানা গেছে, কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তুলনামূলকভাবে কম দুর্বল এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে পাঁচটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ-২০২৫ এর আওতায় ইতিমধ্যে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সরকারি মালিকানায় একটি সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।

তারা আরও দাবি করেন, বিকাশকে দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা গেছে, ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সসহ আটটি এজেন্ডা নিয়ে সেদিন পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছিল। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্রের দপ্তর থেকেও জানানো হয়েছিল, শুধু বিকাশকে ডিজিটাল লাইসেন্স দেওয়ার জন্য পর্ষদ সভা ডাকা হয়েছে, বিষয়টি সঠিক নয়।

এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্টাফ রেগুলেশন অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা সংবাদ সম্মেলন বা প্রকাশ্য বক্তব্য দেওয়ার আগে গভর্নরের অনুমোদন নিতে হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়ে আপত্তি থাকলে তা অভ্যন্তরীণ ফোরামে তোলার সুযোগ রয়েছে। এই বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগেই তিন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।