খাদ্যে ভেজাল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে

দেশে যে খাদ্য উৎপাদন হয়, এর মধ্যে মাত্রাতিরিক্ত হেভি মেটালের (ভারী ধাতু) অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে, যা বিভিন্ন পরীক্ষায় উঠে এসেছে। এর থেকে বের হয়ে আসা জরুরি বলে জানিয়েছেন

কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, কৃষক, খাদ্য উৎপাদনে একদিকে খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যের মানও নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার খাদ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী।

সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

মন্ত্রী বলেন, ‘মানুষকে খাদ্য নিয়ে যাতে কোনো চিন্তা করতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। একদিকে খাদ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি খাদ্যের মানও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে আমরা যদি ডেভেলপ করতে পারি, তাহলে আমদানি-রপ্তানি থেকে শুরু করে সবগুলো পর্যায়ের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়ে করানো যাবে। তখন তারা ইউএসএফডিএর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাবে। তাদের দেওয়া সার্টিফিকেট বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পাবে। আমাদের মূল টার্গেট চালের পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্যপণ্যও রপ্তানি করা। এজন্য আমাদের কাজ করতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা গতানুগতিক ধারার পরিবর্তে একটু ভিন্নতা নিয়ে কাজ শুরু করতে চাচ্ছি। আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করতে এসেছি। যেহেতু এখানে সময় দেব, তাই এটাকে অবশ্যই অর্থবহ করতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সমস্যা থাকবে, এর সমাধানও আছে। আপনারা অভিজ্ঞ মানুষ, আপনারা শুধু সমস্যার কথা বলবেন না। পাশাপাশি সম্ভাব্য সমাধানের কথাও বলবেন। সবাইকে নিয়ে সমস্যার সমাধান করব। একটা সুন্দর টিমওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করতে চাই। আমার অনুরোধ থাকবে, সবাই মানুষের জন্য কাজ করবেন। আমরা সবাই মিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে চাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন আমাদের কাজের সিস্টেম দেখে আমাদের মনে রাখে। আমরা সবসময় টেকসই সমাধানের জন্য কাজ করব।’

সভায় প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু খাদ্য নিরাপত্তাসহ ভেজালমুক্ত খাদ্যের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন এবং এ কাজের জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চান।

খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার বলেন, খাদ্য অধিদপ্তরের সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। ভুল তথ্যের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।

খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, অধিদপ্তরের সব পর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের গৃহীত কার্যক্রম বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।