ইতিহাসে প্রথমবার পশ্চিম তীরের বসতিতে পাসপোর্ট সেবা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

এই প্রথম ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে গিয়ে সরাসরি পাসপোর্ট সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা  জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই একটি বসতিতে অবস্থান করে মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা এই সেবা প্রদান করবেন। পশ্চিম তীরে বসবাসরত কয়েক হাজার আমেরিকান-ইসরায়েলি নাগরিকের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ মনে করলেও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে আসছে। ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘকাল ধরে গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের পাশাপাশি পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ স্বাধীন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।

জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিকের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেথলেহেমের দক্ষিণে অবস্থিত ‘এফরাত’ নামক বসতিতে রুটিন পাসপোর্ট সেবা দেওয়া হবে।

দূতাবাস আরও জানায়, তারা পরবর্তীতে রামাল্লা (ফিলিস্তিনি শহর), বেিতার ইলিত (বসতি) এবং ইসরায়েলের হাইফা শহরেও এ ধরনের ভ্রাম্যমাণ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে জেরুজালেম দূতাবাস ও তেল আবিবের শাখা অফিস থেকে এসব সেবা দেওয়া হয়।

পশ্চিম তীরে কতজন মার্কিন নাগরিক বাস করেন তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান দূতাবাসের কাছে নেই। তবে ধারণা করা হয়, সেখানে কয়েক হাজার আমেরিকান-ইসরায়েলি দ্বৈত নাগরিক বসবাস করছেন। বিশেষ করে ‘এফরাত’ বসতিতে প্রচুর মার্কিন অভিবাসীর বাস।

মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘এটিই প্রথমবার যখন আমরা পশ্চিম তীরের কোনো বসতিতে কনস্যুলার সেবা প্রদান করছি।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পশ্চিম তীরে বসবাসরত আমেরিকান-ফিলিস্তিনি দ্বৈত নাগরিকদের জন্যও একই ধরনের সেবা দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থি মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার এবং বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ করার লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। ফিলিস্তিনিরা একে ‘কার্যত অধিগ্রহণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক হলেও তিনি পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অংশ করে নেওয়ার (অ্যানেক্সেশন) বিরোধিতা করেছেন। তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, তার প্রশাসন বসতি স্থাপন কার্যক্রম বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, যার ফলে গত বছর থেকে এই কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পশ্চিম তীরে ৩ মিলিয়ন ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লক্ষাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ অংশই ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স