১৮ চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১৩

ফরিদপুরে একটি সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোরচক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া ১৮টি ইজিবাইক। চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে অংশবিশেষ আলাদা আলাদাভাবে নতুন করে জোড়া লাগিয়ে বিক্রি করত এমন তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে।

গতকাল বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার সূত্র ধরে এই চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে ইজিবাইক চালক জাহিদুল ইসলাম (৪০) শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের সামনে ইজিবাইক তালাবদ্ধ করে রেখে ব্যক্তিগত কাজে আদালতে যান। ফিরে এসে ইজিবাইকটি না পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা ওইদিন আলাল ফকির (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে সে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ও চক্রের অন্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একে একে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন মোজাম্মেল মন্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল মীর মালোত, মিলন খান, আশরাফ, শহিদ সিকদার, জুয়েল রানা এবং রনি মিয়া। তারা ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চুরি ও চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী, শরীয়তপুরের নড়িয়া এবং মাগুরার মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্য থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।