ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত চলাকালে বর্তমান এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ সুজি ওয়াইলসের ফোন কল রেকর্ড সংগ্রহ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। ২০২২ ও ২০২৩ সালে, যখন তারা সাধারণ নাগরিক ছিলেন, তখনই তাদের ওপর এই নজরদারি চালানো হয়। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্যাটেল নিজেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জো বাইডেন প্রশাসনের সময় বিশেষ কাউন্সিল জ্যাক স্মিথ যখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গোপন নথি চুরির অভিযোগ তদন্ত করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই ফোন রেকর্ডগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্যাটেলের দাবি অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ‘টোল রেকর্ড’ (কার সঙ্গে কখন কতক্ষণ কথা হয়েছে) সংগ্রহ করেছিলেন, তবে কলের ভেতরে কী আলোচনা হয়েছে তা রেকর্ড করা হয়নি। উল্লেখ্য, মার্কিন আইন অনুযায়ী কোনো বিচারকের অনুমতি ছাড়াই তদন্তের প্রয়োজনে এমন রেকর্ড সংগ্রহ করা সম্ভব।
কাশ প্যাটেল অভিযোগ করেছেন, এফবিআই এই রেকর্ডগুলো সাধারণ পদ্ধতিতে না রেখে ‘নিষিদ্ধ’ নামক একটি বিশেষ ক্যাটাগরির ফাইলে লুকিয়ে রেখেছিল। এর ফলে সাধারণ কোনো তদারকি বা অডিটে এই তথ্যগুলো খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যাটেল এফবিআই-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেক খোঁজাখুঁজির পর এই গোপন ফাইলগুলো উদ্ধার করেন। তিনি একে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ এবং বিরোধী পক্ষকে দমনের চেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এফবিআই-এর অন্তত ১০ জন বর্তমান কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের টার্গেট করেছিলেন। প্যাটেল জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে এফবিআই-এর কম্পিউটার সিস্টেমে ফাইলগুলো ‘নিষিদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা বাতিল করে দিয়েছেন।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা জ্যাক স্মিথের এই পদক্ষেপের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এই তথ্য সংগ্রহ করা ছিল সম্পূর্ণ আইনসম্মত। অন্যদিকে, স্মিথ আগেই কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন যে তার তদন্তকারীরা কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি এবং সমস্ত নিয়ম মেনেই ফোন রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছিল।
২০২০ সালের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ এবং ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে সরকারি নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই সময় প্যাটেল ও ওয়াইলস দুজনেই ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন। যদিও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা সেই মামলাগুলো পরে আদালত খারিজ করে দেয়। বর্তমানে একটি ফেডারেল আদালত এই তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স