লৌহজংয়ে সড়কে খোয়া ফেলে উধাও ঠিকাদার, ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড হাড়িদিয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ রোড থেকে স্টিলের ব্রিজ সড়ক পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারের লোকজন উধাও হয়েছে। রাস্তা খোঁড়ার পর ইটের খোয়া ফেলে প্রায় বিশ মাসের বেশি সময় ধরে লাপাত্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী এলাকাবাসী।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৪৫ মিটার সড়কটি সংস্কার করে সড়কটি কার্পেটিং করার জন্য বরাদ্দ হয় ৪৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৭১ টাকা। কাজের দরপত্র পায় শাহাবুদ্দিন ট্রেডিং কোং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
২০২৪ সালের প্রথম দিকে তারা কাজ শুরু করে। কাজের শুরুতে রাস্তা খুঁড়ে ইটের খোয়া ফেলার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান। প্রায় বিশ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাকি কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেই ঠিকাদারের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্পেটিং এর নামে খুঁড়ে কেবল খোয়া ফেলে রেখে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকার কারণে সেসব খোয়াও সরে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সড়কটি দিয়ে চলছে ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।  

হাড়িদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আশরাফ বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত আমাদের হাট বাজারে যেতে হয়। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও প্রাথমিকের শিশুরা যাতায়াত করে। সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী অনেক খুশি হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন রাস্তা মেরামতের কাজটি বন্ধ থাকায় গ্রামের লোকজনের চলাচলে অনেক অসুবিধা হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজ শুরুর আগে সড়ক দিয়ে চলাচল করতে পারতাম। এখন তো চলাই দায়। সামনে শুকনো মৌসুম, ধুলায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়বে। কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার উধাও। আমরা জরুরি ভিত্তিতে রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এলাকার বাসিন্দা সেলিম মল্লিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের নামে ঠিকাদারের লোকজন কাজ ফেলে চলে গেছে। এর আগে বৃষ্টিতে রাস্তার অনেক অংশে খোয়া সরে সাইট ভেঙে গেছে মাঝে মাঝে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে৷ এই শুকনো মৌসুমে ধুলায় অতিষ্ঠ আশেপাশের মানুষ। সড়কটি দ্রুত সংস্কার কাজ না করলে সামনের মৌসুমে বৃষ্টিতে আরো বড় বড় গর্তে পরিণত হবে৷ সড়কের নিকটতম বাসিন্দা মিন্টু বলেন ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি ছেড়াবেড়া করে রেখে গেছে মাদরাসা ছাত্রদের ও আমাদের চলাচলে খুব কষ্ট হচ্ছে৷  

লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য কাজ করেনি কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে।