জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে চাষ হয়েছে ধান, গম, সরিষাসহ নানা ধরনের ফসল। তারই মাঝখানে কয়েকজন কৃষক জমিতে তামাকগাছ পরিচর্যা করছেন। এক সময় এই জমিতেও বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হতো। অধিক লাভের প্রলোভনে পড়ে এখন সেখানে ঢুকে পড়েছে তামাক চাষ। এতে বেড়েছে কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি।
জেলা কৃষি সম্প্রাসরণ অধিদপ্তরের কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় তামাক চাষ হয়ে থাকে। চলতি বছর দুই উপজেলায় ২২ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ১০ হেক্টর ও মেলান্দহ উপজেলায় ১২ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, দেশে তামাক চাষ সরাসরি আইনত নিষিদ্ধ না হলেও এটি নিরুৎসাহিত করার উদ্যোগ নেই কৃষি বিভাগের। তাদের যথাযথ তদারকি না থাকায় সুযোগ নিচ্ছে কোম্পানির কর্মীরা। তারা কৃষকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে অন্য ফসল থেকে সরিয়ে তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলা মেলান্দহ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে তামাকের চাষ হচ্ছে। গম, ভুট্টা, সরিষা, ধান ও কলাসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি জমিতে তামাক চাষ করছেন কৃষকরা।
তামাক চাষিরা বলেন, তামাক চাষের জন্য বিভিন্ন কোম্পানি সার, বীজ, কীটনাশকসহ নানা সুবিধা দিয়ে থাকে। এ জন্য জমির ক্ষতি হলেও তামাক চাষ করছেন তারা। তামাকের চেয়ে সবজিতে লাভ বেশি, কিন্তু তামাক কোম্পানি যে সুবিধা দেয়, তা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। এক বিঘা জমিতে তামাক আবাদ করতে খরচ হয় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। একটি তামাক কোম্পানি এই চাষাবাদের জন্য বীজ, সার, কীটনাশক এবং তামাক পোড়ানোর জন্য ঘর নির্মাণের টাকা দেয়। কাজ করার জন্য পোশাক তৈরিতেও অগ্রিম টাকা দেওয়া হয়। তিন থেকে চার মাসের এই আবাদে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা লাভ হবে আশা করছি। অন্য ফসল চাষ করা বাদ দিয়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, তামাক চাষে জমির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। তামাক প্রক্রিয়াজাত করতে শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের ক্ষতি হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান বলেন, তামাক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, সেই বিষয় তুলে ধরে তামাক চাষ না করার জন্য কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।