ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সব সেক্টর ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে, গ্রাহকরা যেনো সহজেই ঘরে বসে সব সেবা পেতে পারেন। শনিবার(২৮ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নেত্রকোনায় সরকারি সফরে এসে সার্কিট হাউসে বৃক্ষরোপণ শেষে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবকিছু এখন ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। ১৯৫০ সালের পর ৪৮ বছর লেগেছে সারা বাংলাদেশের সবকিছু গুছিয়ে আনতে। যেখানে আগে ৪৮ বছর লাগত, সেখানে এখন দ্রুতগতিতে আমাদের কার্যক্রম চলছে। আমাদের প্রত্যেকটি সেক্টরকে ডিজিটালাইজ করা হবে। মানুষ যেনো ঘরে বসেই সব সেবা পেতে পারে। ৫০ বছর আগে যে জমি ছিল, উত্তরাধিকার সূত্রে তা দশ ভাগ হয়েছে কিন্তু দাগ হয়তো একটাই রয়ে গেছে। আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি। জনগণের সরকার হিসেবে জনগণের কল্যাণে যা করা প্রয়োজন, আমরা সেটাই করব ইনশাআল্লাহ।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। রেললাইনের কথা বলা হয়েছে, রেলের জমি হয়তো ভূমির কিন্তু তা রেল কর্তৃপক্ষের অধীনে। তারা হয়তো অনেক জায়গা লিজ দিয়েছেন। জমিটি মূলত ভূমি মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষ আগে তা অধিগ্রহণ করেছে। এরকম প্রত্যেকটি বিষয়ে সারাদেশে পরিসংখ্যান নিচ্ছি। যেসব জায়গায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের জায়গা বেদখল আছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নদী-খাল উদ্ধার ও খনন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মগরা নদী উদ্ধারে যারা উদ্যোগ নিয়েছিল, তাদের কারণেই তা ব্যর্থ হয়েছে। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন আর কোনো কাজ হয় না। কিন্তু আমরা নদী শাসনের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে নদী-খাল উদ্ধার করার কথা ছিল। ‘জাল যার জলা তার’ -নীতিও সেখানে ছিল। মানুষ আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তার মানে মানুষ আমাদের এটি করতে বাধ্য করছে। আমরা সেটিই করব। এখানে কে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে কে দাঁড়াবে না সেটাই প্রশ্ন। যদি কেউ অন্যায়ভাবে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নেত্রকোনার পর্যটন শিল্প বিকাশ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু পর্যটন নয়, এই গারো পাহাড়ের পাদদেশে যাদের বসতি আছে, তাদের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা নিয়েও ভাবছি। তাদের রাস্তাঘাট ও পানির সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। আমরা সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছি, আশা করছি প্রত্যেকটি বিষয় চিহ্নিত করতে পারবো। এক্ষেত্রে আমরা সাংবাদিকদের পাশে চাই। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করেন। আপনারা পেশাদারিত্বের সাথে আমাদের সহযোগিতা করলে প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
পরে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হলরুমে জেলার সকল সরকারি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের এমপি ডাক্তার আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের এমপি ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী, নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের এমপি মাছুম মোস্তফা ও পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজ নিজ কাজের বিবরণ দেন। সভা শেষে জেলা বার মিলনায়তনে আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় করে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।