শীতের বিদায় ঘণ্টা বাজতেই নরম রোদ, মৃদু বাতাস আর স্নিগ্ধ আলোর স্পর্শে বসন্ত এসে ধরা দেয় প্রকৃতির বুকে। ঋতুর এই পরিবর্তন শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, অনুভবে, রঙে ও সুরে জানান দেয় তার উপস্থিতি। সেই রঙিন আগমনের সবচেয়ে উজ্জ্বল রূপ ফুটে ওঠে যেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ-শ্যামল ক্যাম্পাসে। ৫৩ একরজুড়ে বিস্তৃত এই প্রাঙ্গণ যেন মুহূর্তেই রঙের এক জীবন্ত ক্যানভাসে পরিণত হয়, যেখানে প্রকৃতি ও তারুণ্য মিলেমিশে তৈরি করে এক অনন্য আবহ। বসন্তের আগমনে ক্যাম্পাসের গাছপালায় জেগে ওঠে নতুন প্রাণ। কচি সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল পলাশের আগুনরাঙা ফুল চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় কোকিলের মধুর ডাক, যা বসন্তের আগমনী বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। শুধু প্রকৃতিই নয়, বসন্তের ছোঁয়ায় বদলে যায় শিক্ষার্থীদের মনও। ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, ক্যাম্পাসজুড়ে ছবি তোলা, বসন্তের রঙে রাঙানো পোশাক সব মিলিয়ে প্রাণের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। কীর্তনখোলা নদীর কাছাকাছি অবস্থানের কারণে ক্যাম্পাসের বাতাসে থাকে এক আলাদা স্নিগ্ধতা। বসন্তের নরম হাওয়ায় সেই স্নিগ্ধতা যেন আরও গভীর হয়ে ওঠে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়ে আকাশে, আর সেই আলোয় ক্যাম্পাসের গাছপালা ও ভবনগুলো দেখায় স্বপ্নিল। নতুন পাতা যেমন পুরনোকে সরিয়ে জায়গা করে নেয়, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনেও জাগে নতুন স্বপ্ন ও উদ্দীপনা। পুরো ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে জীবন, প্রাণ ও ভালোবাসার উৎসবস্থল।
ওরাইনা খাঁন চৌধুরী
শিক্ষার্থী, প্রথম বর্ষ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়