যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম সামরিক শক্তি ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মাণের সামর্থ্য কাটছাঁট করতে। দেশটি এতে রাজি না হলে প্রয়োজনে সামরিক হামলা চালানো হবে, এমন হুমকি দেওয়া হয় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। যুদ্ধবিমানবাহী কয়েকটি জাহাজসহ ব্যাপক সামরিক সমাবেশ ঘটানো হয় ইরানের চারপাশে বিভিন্ন সাগরে ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলোয়। প্রকাশ্য ও গোপন আলোচনায় মার্কিন দাবি নাকচ হওয়ায় এবার ইরানের শাসক বদলাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গতকাল একযোগে দেশটিতে সামরিক হামলা শুরু করেছে। ইরানও বসে নেই। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা মিসাইল হামলা চালিয়েছে দেশটি।
হঠাৎ এ যুদ্ধে টালমাটাল হয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘ভয়াবহ সামরিক অভিযান’ শুরু করেছে। ইরানে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৭৪৭ জন। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রেড ক্রিসেন্টের বরাতে ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, ইরানের ২৪টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে।
জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। শুধু ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ছয়টি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার এ তথ্য নিশ্চিত করে।
রয়টার্স বলছে, হামলা শুরুর পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে একটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ অক্ষত ও নিরাপদ আছেন।
ইসরায়েলি হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাসিরজাদেহ ছাড়াও রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ হরমোজগানের মিনাব ও জাস্কে পৃথক হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে জানায় দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স। এর মধ্যে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়েই নিহত হয়েছে ৫৩ জন শিক্ষার্থী। হামলার আগে সেখানে ১৭০ শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল। তাই নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলা আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের সংবাদমাধ্যম বলেছে, শনিবার ইরানের পাঁচটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরগুলো হলো তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ এবং কেরমানশাহ। রাজধানী তেহরানের ‘ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট’ এবং ‘রিপাবলিক’ এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তেহরানে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ও পারচিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। হামলার পর ইরানের পুরো আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে চলমান হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ ও সমুদ্র পথে ‘ব্যাপক’ হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালানো হচ্ছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা ইরানের ‘শত শত সামরিক স্থাপনায় হামলা’ চালিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারও। ইরানের পাল্টা হামলার পর ইসরায়েলের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিিদ্র নয়। জনসাধারণকে নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চলবে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে হামলা করেছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, ইরান থেকে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। কুয়েতের আল-সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। আমিরাতের আবুধাবিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। রয়টার্স জানিয়েছে, বাহরাইনের রাজধানী মানামা ও জাফায়ায় বিকট বিস্ফোরণের পর আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা গেছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশগুলোতে যুগপৎভাবে বিস্ফোরণের এসব ঘটনায় পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানে পাল্টা হামলার জেরে নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতার।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদ বলেছে, এসব হামলা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ‘অবিরাম লঙ্ঘন’ অব্যাহত থাকলে এর ‘গুরুতর পরিণতি’ হতে পারে।
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ কাতার এবং বাহরাইনে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিতে ইরানিদের ট্রাম্পের ডাক: এদিকে, ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অভিযান শেষ হলে আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিন। এটি আপনাদেরই হবে; আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সম্ভবত এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র সুযোগ।’ ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি অস্ত্র ত্যাগ করে, তবে তাদের ‘ক্ষমা’ করা হবে। অন্যথায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট স্থগিত : ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের নামি-দামি এয়ারলাইনসগুলো এ অঞ্চলের আকাশপথ এড়িয়ে চলছে এবং তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো স্থগিত ঘোষণা করেছে। এয়ার ফ্রান্স, এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, কাতার এয়ারওয়েজ, লুফথানসা, টার্কিশ এয়ারলাইনস, জাপান এয়ারলাইনস, ভার্জিন আটলান্টিক, আইবেরিয়া এক্সপ্রেস, লট এয়ারলাইনস, নরওয়েজিয়ান এয়ার এবং এয়ার আলজেরিসহ ১৭টি সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ইরানে হামলার নিন্দা : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি একে ‘বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে মস্কোর এ অবস্থান তুলে ধরেন ল্যাভরভ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দিমিত্র মেদভেদেভ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে
ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত দেখতে চায় না যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, এটি উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে এবং একটি আরও অনিশ্চিত ও প্রতিকূল বিশ্বব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সানচেজ আরও জানান, তিনি ইরান সরকার এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকাণ্ডকেও প্রত্যাখ্যান করেন।
ইরানের সাধারণ জনগণের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ফল ডার লিয়েন, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
ইরানে ট্রাম্পের হামলা ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি। এক বিবৃতিতে মার্কি বলেন, এ হামলা কংগ্রেস অনুমোদিত নয়। এটি সমস্ত আমেরিকানদের জন্য বিপদ বয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের অবৈধ কর্মকাণ্ড একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক হুমকি। মার্কি বলেন, ট্রাম্প ধারাবাহিকভাবে ইরানের পারমাণবিক হুমকি অতি আসন্ন উল্লেখ করে তা অতিরঞ্জিত করে দেখিয়েছেন। এমনকি (গত জুনে) তার অবৈধ ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ হামলার সময় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ‘বিধ্বস্ত’ করা হয়েছে বলে দাবি করার পরও ইরানের হুমকি আসন্ন এটা বলেই যাচ্ছেন ট্রাম্প।
২০২৪ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের সীমিত আকারের এক যুদ্ধের রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ইরানে এবার আবারও হামলা হলো।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক : মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হামলায় শুধু মৃত্যু, ধ্বংস ও মানবিক দুর্দশাই বাড়বে।’ এদিকে, ফ্রান্সের আহ্বানে বিশ্বসংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদের এক সভা আজ নিউ ইয়র্কে বসার কথা রয়েছে।