পঞ্চগড়ের জগদল এলাকার দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জগদল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও জগদল নুর আক্তার সরকার দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমের পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজেদের শিক্ষার্থীদের নিয়েই আলাদা কোচিং পরিচালনা করছেন। ফলে বিদ্যালয় দুটি ধীরে ধীরে কোচিং বাণিজ্যের সেন্টারে পরিণত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে,পাঠদানের নির্ধারিত সময় শেষে কিংবা ছুটির দিনেও শিক্ষকরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাধ্যতামূলক নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, শ্রেণিকক্ষে সংক্ষিপ্তভাবে পড়িয়ে কোচিংয়ে বিস্তারিত শেখানো হচ্ছে এমন ধারণা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।
এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন একই শিক্ষক ক্লাসেও পড়ান, আবার কোচিংয়েও পড়ান, তখন কোচিংয়ে না গেলে সন্তান পিছিয়ে পড়বে এমন ভয় কাজ করে। স্কুলেই যদি পুরো পড়া বুঝিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে আলাদা কোচিংয়ের প্রয়োজন কী?
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সরকারি বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষক ব্যবহার করে যদি নিজস্ব শিক্ষার্থীদের নিয়েই কোচিং বাণিজ্য নৈতিকতার পরিপন্থী। এতে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর সন্তানরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। জগদল দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিছুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে দুইজন শিক্ষক অতিরিক্ত ক্লাস (এক্সট্রা ক্লাস) পরিচালনা করছেন এবং প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তারা আদায়কৃত অর্থের ১০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদান করেন।
তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনারা কি শুধু আমাদের বিদ্যালয়ই দেখেন? এখানে কোনো কোচিং করানো হচ্ছে না, আমরা শুধুমাত্র এক্সট্রা ক্লাস নিচ্ছি। প্রধান শিক্ষকের উল্লেখ করা ১০ শতাংশ অর্থ প্রদানের বিষয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমরা কোথাও কোনো টাকা দিই না-না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, না প্রধান শিক্ষককে।
দুই শিক্ষকের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘এক্সট্রা ক্লাস’-এর আড়ালে কোচিং বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। অপরদিকে জগদল নুর আক্তার সরকার দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফুল কবির মো. কামরুল হাসান বলেন, সরকারি বিধিমালা অমান্য করে কোনো বিদ্যালয়ের ভবনে প্রাইভেট বা কোচিং পরিচালনা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।