ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আপাতত জ্বালানি তেলে তাৎক্ষণিক সংকট না
থাকলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি আমদানিতে বিঘেœর আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যে তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এলপিজি, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, আমদানি বিল বাড়া ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সহসা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বাড়া এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপএই তিনটি বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, জ্বালানি আমদানি বিল বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নতুন চাপ তৈরি হবে। ইউক্রেন ও গাজা যুদ্ধের পর দুই বছরে দেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০ বিলিয়নের নিচে নেমে এসেছিল। একই পরিস্থিতি পুনরাবৃত্তি হলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা নতুন সরকারকে বাড়তি চাপে ফেলবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, দেশের জ্বালানি খাতে তার প্রভাবসহ সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। যুদ্ধের আগুন বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহে একটি প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছে জ্বালানি বিভাগ। জ্বালানি সরবরাহ যথাসম্ভব অব্যাহত রাখতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে জ্বালানির উৎস খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন আশা করেন শিগগির যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। সেক্ষেত্রে জ্বালানি নিয়ে তেমন একটা সমস্যা হবে না বাংলাদেশের। এক্ষেত্রে এলএনজি সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন হলেও হতে পারে।
গতকাল রাতে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে সংঘাত বন্ধ না হলে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট হবে। পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়বে।
ভবিষ্যতে এমন জটিল পরিস্থিতি এড়াতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৩ মাসের মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলে ঝুঁকি : আমদানিনির্ভর জ্বালানিতে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর নির্ভরশীল। দেশে বছরে প্রায় ৬৮-৭০ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে, যার বেশিরভাগই আছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কৃষি, শিল্প ও গণপরিবহন খাতে এই তেলের প্রধান ব্যবহার হয়। প্রতি মাসে গড়ে সাড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ফলে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হলে দেশের আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় সংকট তৈরি হতে পারে বলে শিল্প উদ্যোক্তা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জরুরি বৈঠক করেছে বিপিসি। যেখানে জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ৩৬ দিনের জ্বালানি তেল মজুদের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে মজুদ রয়েছে মাত্র ১৫ দিনের। এ ছাড়া সমুদ্রপথে এবং খালাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে আরও ২০ থেকে ২৫ দিনের জ্বালানি তেল।
সরকার জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ২৮ লাখ ২০ হাজার টন তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ২৪ লাখ ২০ হাজার টন উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে এবং ১৪ লাখ টন সরকার-টু-সরকার চুক্তিতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করা হবে।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসায় এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির নির্ভরতা নেই এবং জুন পর্যন্ত সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সংকট দেখছে না বিপিসি। তবে অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি উৎস মধ্যপ্রাচ্য হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘ হলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা হিসেবে ফুজাইরাহ টার্মিনাল ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ১৪-১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এলএনজি আমদানিতে বড় বিঘ্নের আশঙ্কা : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি চিন্তিত এলএনজি সরবরাহ নিয়ে। কারণ আমদানি করা বেশির ভাগ এলএনজি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার ও ওমান থেকে আসে। এর বাইরে অল্প পরিমাণ এলএনজি আমদানি করা হয় খোলাবাজার থেকে।
বর্তমানে দেশীয় উৎস থেকে আসে দৈনিক ১৭১ কোটি ঘনফুট আর আমদানি করা এলএনজি থেকে পাওয়া যায় ৮৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড-আরপিজিসিএল সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১১৫টি কার্গোর মাধ্যমে বছরে ৬০ লাখ টনের মতো এলএনজি আমদানি করে। এর মধ্যে শুধু কাতার থেকে আমদানি হয় ৪০ লাখ টনের মতো।
আরপিজিসিএল সূত্রমতে, চলতি মাসে কমপক্ষে ৯টি এলএনজি কার্গো কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে মহেশখালীতে আসার কথা। এরমধ্যে আগামী ৩ মার্চ একটি কার্গো এবং এর ২দিন পর আরও একটি কার্গো কাতার থেকে আসার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত সমুদ্রে ২-৩টি কার্গো আছে।
তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলএনজি আমদানিতে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। বিকল্প রুট ব্যবহার করা হলে সেক্ষেত্রে ব্যয় বাড়বে। এটিই এখন জ্বালানি বিভাগের বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমদানি করা যেসব কার্গো ১৫ তারিখের মধ্যে আসার কথা সেগুলো ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ১৫ থেকে ১৮ তারিখের মধ্যে ১-২ টা কার্গো নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। বিকল্প কীভাবে এলএনজি আমদানি করা যায়।
‘চলতি মাসে খোলা বাজার থেকে এলএনজি আমদানির কোনো পরিকল্পনা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তখন এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সেক্ষেত্রে খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানি বা বিকল্প উপায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে,’ বলেন তিনি।
দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের বড় ব্যবহার রয়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস আমদানির বড় উৎস কাতার। চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে সংঘাতের কারণে সেই সংকট আরও বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন হওয়ার পাশাপাশি গ্রীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংঘাত বিস্তৃত হলে এলএনজি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। স্পট মার্কেটে এলএনজি গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং শিল্প খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
এলএনজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পরিধি বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস, যেমন আফ্রিকা বা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এলপিজি : দেশের বাজারে প্রতি বছর অন্তত ১৪ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি প্রয়োজন হয়। দেশের বাজারে এ গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষত সৌদি আরবসহ ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশ থেকে পণ্যটি আমদানি করে দেশের বাজারে সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। দেশের বাজারে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এলপি গ্যাসের সংকট চলছে। এ পরিস্থিতিতে সংঘাত বিস্তৃত হলে তা দেশের এলপি গ্যাসের বাজারে সংকটের পাশাপাশি দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে আগাম যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তেলের দাম এক লাফে বেড়েছে ১০ শতাংশ : যুদ্ধের প্রভাবে বিশ^বাজারে হু হু করতে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানির দাম। গতকাল ওভার-দ্য-কাউন্টার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮০ ডলারে পৌঁছেছে।
বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আজ সোমবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
আইসিআইএসের জ্বালানি ও রিফাইনিং বিভাগের পরিচালক অজয় পারমার রয়টার্সকে বলেন, যেকোনো সামরিক হামলা তেলের দাম বৃদ্ধির সুযোগ করে দেয়। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পর শনিবার রাত থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ এই হরমুজ প্রণালি। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের দামের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেন বিশ্লেষকরা।
তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা জাহাজগুলো বারবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) একটি বার্তা পাচ্ছে। বার্তায় বলা হচ্ছে, কৌশলগত এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরে যাওয়ার একমাত্র সামুদ্রিক প্রবেশপথ। এর এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ভৌগোলিকভাবে বলতে গেলে, প্রণালিটি পারস্য উপসাগরকে সরাসরি ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। এবং সেই পথ ধরে জাহাজগুলো আরব সাগরে তথা ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন বলছে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ, প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে যায়।
এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন হয় এই প্রণালি দিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন এই প্রণালিকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ’ বলে বর্ণনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা সতর্ক করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘেমেয়াদি যুদ্ধ শুরু হলে তেলের দাম ১০০ ডলারেরও ওপরে উঠতে পারে। বার্কলেজের বিশ্লেষকরাও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে দৈনিক তেল উৎপাদন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এই বৃদ্ধি বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে সামান্য।
রাইস্টাডের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন সপ্তাহের লেনদেন শুরু হলে তেলের দাম আরও ২০ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে উঠতে পারে।
ভারতের ইকুইরাস সিকিউরিটিজ আগেই জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি অচল হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ থেকে ১১০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। বর্তমানে ইরানের দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৩৩ লাখ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৩ শতাংশ। সরবরাহের প্রতি ১ শতাংশ বিঘেœ দাম ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস আগেই সতর্ক করেছিল, বড় ধরনের অবরোধ হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতে পারে। সংস্থাটির মতে, আংশিক বিঘ্নের ঝুঁকি থাকলেও ব্যারেলপ্রতি ২০ থেকে ৪০ ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য যুক্ত হওয়ার নজির রয়েছে।