তেহরানে পরিচালিত এক সমন্বিত সামরিক অভিযানের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছিল এমনটাই জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
পত্রিকাটি অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে খামেনির চলাচল ও অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল সিআইএ। সম্প্রতি তারা জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি সরকারি কম্পাউন্ডে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হবে এবং সেখানে খামেনিও উপস্থিত থাকবেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ নতুন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার পূর্বনির্ধারিত সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত রাতের অন্ধকারে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা থাকলেও, সকালের বৈঠককে লক্ষ্য করে সময় এগিয়ে আনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছে। সরকারি ওই কম্পাউন্ডে ইরানের প্রেসিডেন্সি অফিস, সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দপ্তর অবস্থিত।
ইসরায়েল ‘রোরিং লায়ন’ নামে এ অভিযান পরিচালনা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। তুলনামূলক কমসংখ্যক বিমান ব্যবহার করা হলেও সেগুলো ছিল দূরপাল্লার ও উচ্চনির্ভুল অস্ত্রে সজ্জিত। উড্ডয়নের দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর, তেহরানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। হামলার সময় জ্যেষ্ঠ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি পাশের আরেকটি ভবনে ছিলেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে সম্ভাব্য উপস্থিত কর্মকর্তাদের তালিকায় আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক পরিষদের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার সৈয়দ মজিদ মুসাভি এবং গোয়েন্দা উপমন্ত্রী মোহাম্মদ শিরাজির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল রবিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) দুই উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর বিষয়টিও নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে রিয়ার অ্যাডমিরাল শামখানি ও মেজর জেনারেল পাকপুরের নাম রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অভিযান সম্পর্কে জানতে হোয়াইট হাউজ এবং সিআইএর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হয়নি বলে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন। একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, সাম্প্রতিক অভিযানে সেই একই গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছে।
সরকারি কম্পাউন্ডে হামলার পর ইরানের গোয়েন্দা কাঠামোর আরও কিছু স্থাপনাও লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও কিছু কর্মকর্তা নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন।