ইরানের ড্রোনের আঘাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। একই ধরনের আঘাতে কুয়েতে চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গতকাল রবিবার ইরানের ড্রোনের হামলা তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ, নেপাল ও পাকিস্তানের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
আমিরাত বলছে, হামলায় ৫৮ জন আহত হয়েছেন। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়। আহতদের মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৫ দেশের নাগরিক আছেন। তবে বাংলাদেশি কতজন, সে বিষয়ে আমিরাত কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সেখানকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন হাসপাতালে আহত চার বাংলাদেশিকে দেখতে গেছেন। তিনি অন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের খোঁজখবরও নিচ্ছেন।
ইরানে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা; ইসরায়েল, ইউএই, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ অনেক স্থানে ইরানের পাল্টা হামলার পর যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের খোঁজখবর নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে রাজধানীর সচিবালয়ে গতকাল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও সেখানে ছিলেন।
হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে যারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আছেন তাদের নিরাপত্তা, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দরে আটকেপড়া নাগরিকরা যাতে অসুবিধা বোধ না করেন, সেজন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইরানে বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি আছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং মতপার্থক্য নিরসনে কূটনৈতিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশ বলেছে, শত্রুতা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও বেসামরিক নাগরিকের কল্যাণকে আরও বিপন্ন করবে। এ ছাড়া, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের নিন্দা জানানো হয়।
তবে বাংলাদেশ সরকারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইরানে হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উল্লেখ না থাকা এবং সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হয়েছে এমন দেশগুলোর মধ্যে ইরানের নাম উল্লেখ না করায় বিস্ময় প্রকাশ করে নিন্দা জানিয়েছেন অনেকে।
অর্থনীতিবিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গতকাল এক পোস্টে বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে দুটি দেশের নাম নেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল! করুণা জানাই।’
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ আগ্রাসনের প্রতিবাদ করল না বাংলাদেশ সরকার। যে সরকার খুনি যুদ্ধাপরাধী ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বর্বর আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে ভয় পায়, তাদের স্বাধীন সরকার বলার কোনো উপায় নেই!’
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির পিডিএফ কপি নিজের ফেসবুক পোস্টে যুক্ত করে মন্তব্য করেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমেরিকা নিয়ে গেছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তির শুধু লোগোটা বদলে দিলেই মনে হবে হোয়াইট হাউজ থেকে এসেছে।’ তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতিতে মাথা উঁচু করে বাঁচার দিন শেষ।