বাগেরহাটে ছাত্রদল কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা, ৩ জামায়াত কর্মী গ্রেপ্তার

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ছাত্রদলের সাবেক কর্মী আরিফুল ইসলাম মাসুমকে (৩০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে। গত ররিবার রাতে উপজেলার সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা জামায়াত ইসলামীর সমর্থক।

পুলিশ বলছে, নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম শরণখোলা উপজেলার খুড়িয়াখালী গ্রামের আবদুল মজিদ হাওলাদারের ছেলে। সোমবার দুপুরে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে নিহতের ভাই মো. শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সোনাতলা গ্রামের খলিল বয়াতি, শাহজালাল বয়াতি ও তানজের হাওলাদারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ছাত্রদল কর্মী আরিফুলের মোবাইলে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে রবিবার রাত ৯টার দিকে আরিফুল শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিলে পথে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে দেখা হয়। সে সময় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। এলোপাতাড়ি মারধরে আরিফুল রাস্তায় অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে বাগেরহাটের জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ আব্দুল আলীমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

বগুড়ায় জমিজমা বিরোধে জামায়াত নেতা খুন : বগুড়া শহরে জমিজমা বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সাইফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। গত রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের মাহবুবনগর এলাকায় আহত হন সাইফুল। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় র‌্যাব-১২ প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়ার ইয়ার মোহাম্মদ ওরফে বিক্রম (৩২) এবং তার মা মোছা. বেবী খাতুন (৫২)।

নিহত সাইফুল ইসলাম শহরের মাহবুবনগর এলাকার নওশেদ আলীর ছেলে। তিনি জামায়াতের বগুড়া শহর শাখার ওলামা বিভাগের রুকন ছিলেন বলে জানিয়েছেন শহর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক ইকবাল হোসেন।

র‌্যাব ও সদর থানা সূত্রে জানা যায়, রবিবার ঠনঠনিয়া মাহবুবনগর শাহী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এলাকায় নিজ ক্রয়কৃত জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকালে হামলার শিকার হন সাইফুল। প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে ইয়ার মোহাম্মদ ছুরিকাঘাত করেন। স্থানীয়রা সাইফুলকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের দুলাভাই মো. আলী আজম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ধুনট উপজেলার মোহনপুরে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রধান আসামি বিক্রমকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যে হত্যায় ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু উদ্ধার হয়। পরে ভোর সাড়ে ৫টায় ঠনঠনিয়া পশ্চিমপাড়া থেকে বেবী খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারদের সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।