চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু হত্যাকা- বেড়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪০টি ঘটনায় ৪৪টি হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে, যা মাসে গড়ে ৭ জনের বেশি। সংগঠনের হিসাবে ২০২৫ সালের পুরোটা সময় ৬৬টি হত্যাকা-ের হিসাবে মাসিক গড় ছিল ৫ দশমিক ৫। ছয় মাসে সংখ্যালঘুদের জমি দখল বা দখলচেষ্টার ঘটনাও মাসিক গড়ে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ।
গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও সারা দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘প্রতিকার চেয়ে সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন আমরা খুব আনন্দের সঙ্গে করছি, বিষয়টি এমন নয়। আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে এসব কর্মসূচি পালন করছি। নির্যাতন-নিপীড়ন কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না। মানে বন্ধ করা হচ্ছে না। সরকার যদি আন্তরিক না হয়, তাহলে এসব বন্ধ হবে না।’ তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর কোনো সরকার সংখ্যালঘুদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করেনি। যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এ সব হামলা, নির্যাতন চলতেই থাকবে।’ নির্মল রোজারিও বলেন, ‘আমাদের কিছুদিন পর পর সংবাদ সম্মেলন করতে হয়। কেন, এই দেশটা কি আমাদের সবার নয়?’
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪০টি হত্যাকা-ে ৪৪ জন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছেন। গত বছর হত্যাকা-ের সংখ্যা ছিল ৬৬। সে হিসাবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে মাসিক গড় হত্যাকা- ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা গণধর্ষণের পাঁচটি ঘটনা ঘটেছে। মাসিক গড়ে যা শূন্য দশমিক ৮৩। তিনি বলেন, ২০২৫ সালে এ ধরনের ২৮টি ঘটনার মাসিক গড় ছিল ২ দশমিক ৩৩। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে মাসিক গড় প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে।
মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, পূজাম-পে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১৫টি ঘটনা ঘটেছে।
