জামিনে মুক্তির ঘণ্টাখানেক পরই যুবককে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

নারায়ণগঞ্জে কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই মো. ইমন (৩৯) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍‍্যাব-১১ এর একটি টিম। 

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকা থেকে মো. রায়হান ওরফে ডিপজল ও মো. সেতুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মো. রায়হান ওরফে ডিপজল (২৯) পশ্চিম মাসদাইর এলাকার মো. শাহজাদ ওরফে শাহাদাতের পুত্র। অপরদিকে মো. সেতু (১৯) দেওভোগ পশ্চিমনগর এলাকার মো. বকুলের পুত্র। 

গ্রেপ্তারকৃত ডিপজলের কাছ থেকে ৫০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। এ সংক্রান্তে তার বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মো. রায়হান ওরফে ডিপজল এর বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

র‍‍্যাব-১১ এর কোম্পানী কমান্ডার (উপপরিচালক) এসপি মো. আব্দুর রশিদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই মো. ইমন (৩৯) নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন ওই এলাকার ওমর খৈয়ামের ছেলে। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে সাতটার দিকে নাারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ইমন। বাড়িতে ফেরার কিছুক্ষণ পরই ফেরদৌস নামের এক ব্যক্তি মুঠোফোনে তাকে শহরের গুদারাঘাট ওয়াজউদ্দিন মিস্ত্রিবাগ এলাকার বাবুল মিয়ার বাসায় ডেকে নেন।

ইমনের বাবা ওমর খৈয়ামের অভিযোগ, সেখানে ফেরদৌস তার ছেলেকে সন্ত্রাসী জাহিদ, হৃদয়সহ অন্যদের হাতে তুলে দেন। তারা ইমনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। প্রাণ বাঁচাতে ইমন দৌঁড়ে পাশের সাদেক মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। সেখানে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। উক্ত ঘটনাটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

এরই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍‍্যাব-১১, সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জের আভিযানিক দল আজ মঙ্গলবার মাসদাইর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার তদন্তে প্রাপ্ত ২ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।