ভূমি অফিসে গিয়ে দেখলেন কেউ আসেননি, বারান্দায় বসেছিলেন প্রতিমন্ত্রী

সকাল ৯টা থেকে অফিসের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আসেন ঘণ্টাখানেক পর। নামজারি খারিজ খাজনা প্রদানে দিতে হয় ঘুষ। অনিয়ম, দুর্নীতি, হয়রানিসহ নানা অভিযোগ সেবাপ্রত্যাশীদের। আজ বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ইউনিয়ন ভূমি অফিস আকস্মিক পরিদর্শনে এসে এমন চিত্র দেখলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আমি সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এসে আশাহত হয়েছি। কারণ ৯টায় অফিস খোলার কথা থাকলেও সেটা হয়নি। দেখলাম একজন কর্মকর্তা পৌনে দশটা এবং আরেকজন দশটার পড়ে এসেছেন। এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেব। আমাদের সরকার জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার অর্থাৎ জনগণের সরকার। আমরা চেয়ারে বসা মাত্রই অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার কথা বলেছি।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশের প্রতিটি ভূমি অফিস নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ আছে। মানুষের অভাব, অভিযোগসহ অনেক কিছুই রয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগটা একনম্বরে রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশেনায় আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করার চেষ্টা করছি। তারাই ধারাবাহিকতায় আমরা এখানে এসে দেখতে পেয়েছি যে ভূমি অফিসের সেবা দানকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেবা গ্রহণকারী গ্রহীতাদের ব্যাপক গ্যাপ কাজ করছে। এখানকার কর্মকর্তারা সেবা গ্রহিতাদের সঠিকভাবে জানাচ্ছে না যে কোনও কাজটায় কতটা সময় লাগতে পারে অর্থাৎ তাদের মধ্যে গ্যাপ অনেক। এককথায় বলা চলে আমলাতান্ত্রিক যে মনোভাব এটা এখনও বিরাজমান।

তিনি বলেন, মূলত প্রজাতন্ত্রে কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে জনগণের সঙ্গে যে সম্পৃক্ততা থাকার কথা সেটা হয়ে উঠছে না। সেইসব বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখব। আজকে পরিদর্শনে এসে সে সমস্যাগুলো চোখে পড়েছে সেগুলো বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেব। আমাদের এই পরিদর্শনের কার্যক্রম সারা দেশে অব্যাহত থাকবে।

বুধবার সকাল ৯টার আগ মুহূর্তে আকস্মিক কাউকে না জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জস্থ ভূমি অফিস পরিদর্শনে আসেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিদর্শনে এসে তিনি দেখতে পান যে সরকারি নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে কর্মরত কোনও কর্মকর্তা কর্মচারী এসে পৌঁছাননি এবং অফিসও তালাবদ্ধ। তার উপস্থিত হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর এক কর্মকর্তা এসে কার্যালয়ের তালা খুলে দিলে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।