ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব

সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এডি লাইন টানা প্রয়োজন

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ বলেছেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা নির্ধারণে অষষাঁরড়হ (পয়স্তি) ও উরষাঁরধহ (সিকস্তি) ষরহব (অউ খরহব) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়। নদী-ভাঙন, চর জাগা ও পলি সঞ্চয়ের মতো প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার কারণে জমির আয়তন ও অবস্থান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। 

এসব পরিবর্তনের আইনগত স্বীকৃতি নির্ধারণে এই দুই ধারণা মুখ্য ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ, অবৈধ দখল একটি বড় সামাজিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে সিকস্তি ও পয়স্তি প্রশিক্ষণ মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য। সুষ্ঠু ভূমি ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নিয়মিতভাবে সিকস্তি ও পয়স্তি (এডি) লাইন টানা প্রয়োজন।

আজ বুধবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘সার্ভেয়ারগণ কর্তৃক এডি লাইন সৃজন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের মডিউল চূড়ান্তকরণ সেমিনারে’ তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারের আয়োজন করে ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মোহাম্মদ আবুল খায়ের।

সিনিয়র সচিব বলেন, বাংলাদেশের নদীমাতৃক বাস্তবতায় অষষাঁরড়হ–উরষাঁরধহ খরহব (অউ খরহব) সৃজন প্রশিক্ষণ শুধু একটি কারিগরি বিষয় নয়; এটি ভূমি ন্যায়বিচার, রাজস্ব সুরক্ষা ও সুশাসনের অন্যতম ভিত্তি। এই প্রশিক্ষণ ছাড়া ভূমি প্রশাসনে টেকসই ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কল্পনা করা যায় না। এই প্রেক্ষাপটে উরষাঁরধহ ষরহব বা ভাঙনের সীমারেখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি মূলত একটি ঐতিহাসিক ও আইনগত রেফারেন্স লাইন, যার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় কোন জমি ভাঙনের আগে কোথায় ছিল এবং চর জাগার পর মালিকানা কার হবে। এই রেখা সঠিকভাবে নির্ধারিত না হলে ভূমি বিরোধ, জাল দলিল, প্রভাবশালীদের দখল ও দীর্ঘস্থায়ী মামলা-মোকদ্দমা অনিবার্য হয়ে ওঠে।

তিনি আরও বলেন, নদী ভাঙ্গন প্রবল এলাকায় সার্ভেয়ারগণদের দুই সপ্তাহ ব্যাপী এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে। নদী ভাঙন প্রবণ এলাকার সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদী-শাসন ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় অষষাঁরড়হ ও উরষাঁরধহ ষরহব-এর বৈজ্ঞানিক, আইনসম্মত ও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত নির্ধারণ সময়ের দাবি। আধুনিক স্যাটেলাইট ইমেজ, জিআইএস ম্যাপিং এবং হালনাগাদ জরিপের মাধ্যমে এই রেখাগুলো নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ভূমি বিরোধ কমবে, ন্যায্য মালিকানা নিশ্চিত হবে এবং নদী ঘেঁষা মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।

সেমিনারে ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) ড. মো. মাহমুদ হাসান, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সায়মা ইউনুস, এনডিসি; মো. রায়হান কাওছার ও মো. এমদাদুল হক চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত