কালীগঞ্জে শ্বশুরবাড়ি থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে বেশ আলোচিত। স্বামী-সন্তান নিয়ে সাজানো ছোট্ট সংসারটি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে অশ্রুসিক্ত নীরবতায়। আর এই মৃত্যুর পর সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে ছয় বছর ও আড়াই বছর বয়সী দুই শিশুর ভবিষ্যৎ।

মৃত গৃহবধূ সুলতা সরদার (২৭) শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভেটখালী গ্রামের সুবল বৈদ্যের একমাত্র কন্যা। তার বিয়ে হয়েছিল কালিগঞ্জ উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মলেঙ্গা গ্রামের মৎস্যচাষী শশাঙ্ক সরদারের সঙ্গে। তাদের সংসারে ছিল দুটি ছোট সন্তান একটি ছেলে ও একটি মেয়ে।

রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিম আল রাজি টোকন পরিবারের বরাতে জানান, ভোররাতে বাড়ির একটি কক্ষে সুলতার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

কালীগঞ্জ থানার এসআই মতিন বিশ্বাস জানান, ঘটনার পর স্বামী শশাঙ্ক সরদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সুলতার পিতা সুবল বৈদ্য অভিযোগ করেন, তার মেয়ের দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যনৈমিত্তিক কলহ লেগেই থাকত। তিনি দাবি করেন, সুলতা প্রায়ই স্বামী শশাঙ্কের বিরুদ্ধে অন্যত্র অনৈতিক সম্পর্ক ও পরকীয়ার অভিযোগ জানাতেন। এসব বিষয় নিয়ে পরিবারে প্রায়শই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

কালীগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার সুমিত কুমার জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল হোসেন বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।