তথ্যমন্ত্রী

শাসক হিসেবে নয়, জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার কাজ করছে

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আমাদের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একক দলীয় সরকার না করে জাতীয় ঐক্যমতের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি এবং অব্যাহতভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কেননা আমরা জানি অর্ধশতাব্দীর এই বাংলাদেশে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে নাই। চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্যে যে পরিবর্তন এবং সংস্কার আনা দরকার আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় যাবার আগেই ৩১ দফার মাধ্যমে সেই পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শাসক হিসেবে নয়, জনগণের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার কাজ করছে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা যে বাংলাদেশে সকল ক্ষমতার মালিক কেবলমাত্র জনগণ। এবং জনগণ তার নির্বাচিত সেবাদানকারীর মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, জনগণের এই ক্ষমতা নির্বাচিত সেবকদের মাধ্যমে দেওয়ার যে দায়িত্ব আমরা সেই দায়িত্বটাই পালন করব। সেই কাজটা করার জন্য এবং জনগণের কর্তৃত্ব যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বহাল থাকে তার জন্য যেই প্রাতিষ্ঠানিক এবং সাংবিধানিক সংস্কার ও পরিবর্তন দরকার সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশনায়ক তারেক রহমানকে দেখেছি ১৭ বছর পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে তিনি কোনও প্রতিহিংসার কথা বলেন নাই, বরং অতীতের কথা না বলে তিনি ভবিষ্যতের কথা বলেছেন। ইতিমধ্যে সরকার নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে। আমাদের ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করার কর্মসূচি শুরু করেছি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু করেছি। দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জনগণের জন্য আমাদের প্রতিশ্রুত বেশ কয়েকটি কাজ ইতিমধ্যেই আমরা বাস্তবায়ন করে চলছি।

তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা হচ্ছে বাংলাদেশের পতিত সরকার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে গিয়ে দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করে ফেলেছে। এমনকি আমাদের আশা ভরসার স্থল সামরিক বাহিনীকেও তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সামরিক বাহিনী শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করেছে তাদের দলীয়করণ করা সম্ভব হয় নাই। এই অন্যায় এবং অপরাধের কারণে গণঅভ্যুত্থানের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য জীবনের ভয়ে ফ্যাসিবাদের শিখন্ডি শেখ হাসিনাসহ সবাইকে পালিয়ে যেতে হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমরা একটা অবাধ নির্বাচন দাবি করেছিলাম। বিভিন্ন মহল থেকে বাঁকা পথে ক্ষমতায় যাওয়ার ইঙ্গিত আমাদের কাছে ছিল। আমাদের মাতৃতুল্য মজলুম নেত্রী খালেদা জিয়া এবং আমাদের দেশনায়ক তারেক রহমান উত্তর দিয়েছিলেন; ক্ষমতায় যাওয়া এবং ক্ষমতায় থাকার একমাত্র কর্তৃত্ব হচ্ছে দেশের জনগণ। আমরা অবাধ নির্বাচন আদায় করতে পেরেছি। এবং নির্বাচনের মধ্যদিয়ে জনগণের সমর্থনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে আজ সরকার গঠন করেছি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনও প্রতিষ্ঠানকে যদি কেউ দলীয়করণ, ব্যক্তিকরণ ও পারিবারিকীকরণ করে, তাহলে সে প্রতিষ্ঠান তার দায়িত্ব পালন করতে পারে না। আর এই সমস্যার সমালোচনা করার দায়িত্ব হচ্ছে গণমাধ্যমের। কিন্তু সে গণমাধ্যমেরই প্রেস ক্লাবের মতো প্রতিষ্ঠান যখন দলীয়করণ হয়, তখন বুঝতে হবে ফ্যাসিবাদের সংজ্ঞা কাকে বলে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আবু সুফিয়ান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ প্রমুখ।