তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শুধু বৈষয়িক উন্নয়নে কোনো জাতি এগোতে পারে না।
তিনি বলেন, একটি জাতিকে এগিয়ে যেতে হলে তার মূল্যবোধ-সংস্কৃতিকে উন্নত স্তরে নিয়ে যেতে হবে। আর তা করা না যায় তবে বৈশ্বিক উন্নতি একটা স্তরে গিয়ে থেমে যাবে। উদাহরণ দিয়ে বলা যায় পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার চুরি চামারি দিয়ে এক ধরনের মেগা প্রজেক্টের কথা বলা যায়। তাদের ধারণা ছিল এ ধরনের মেগা প্রজেক্টে মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। আসলে তা সম্ভব হয়নি। মূল্যবোধ বুদ্ধিহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতি কত আত্মঘাতি হতে পারে তার দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে আছে। তাই গণমাধ্যমকে এবিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার আয়োজনে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় শহরের স্থানীয় একটি কনভেনশন সেন্টারে শিক্ষা বৃত্তি ও সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বগুড়ায় টিভিকেন্দ্র স্থাপনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মরহুম মজলুম নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এখানে টিভি কেন্দ্র স্থাপন করেছিলেন। তিনি যে স্বপ্ন দেখে ছিলেন, আমরা সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য দ্রুত তৎপরতা শুরু করব। যে যে বিষয়গুলো জরুরি সেসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বগুড়া প্রেসক্লাবের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু এই প্রেসক্লাবটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০০৩ সালে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন। তাই এটি পূর্ণাঙ্গ করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাতে আমাদের সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হয়।
অনুদান ও বৃত্তি প্রদানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু পেশা থাকে, যাকে রাষ্ট্র ও সমাজকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হয়। জ্ঞান, বুদ্ধি ভিত্তিক যে পেশা, সেই পেশা দিয়ে বিত্তবান হওয়া যায় না। সেই পেশাকে অবশ্যই রাষ্ট্র ও সমাজকে অবশ্যই পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। সাংবাদিকতার পেশা কোন এন্টারপ্রেনারশিপ না। যিনি মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রি টাকা ইনভেস্ট করেন তিনি একজন মালিক হতে পারেন। সেখানে যারা কাজ করেন মেধা ভিত্তিক, কলম ভিত্তিক তাদের জগৎ কিন্তু আলাদা। এ জগতে একজন মানুষ যদি আমৃত্যু এই পেশায় থাকেন তাহলে তিনি অবশ্যই বিত্তবান হতে পারবেন না। কারণ তার পেশার প্রতি তার জ্ঞান ও আদর্শ কাজ করে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল হক, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কালাম আজাদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) ও মিডিয়া মুখপাত্র আতোয়ার রহমান।
