কৃষিতে সমন্বয়ের চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা শুধু মাঠের ফসল উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মৎস্য উৎপাদন এবং প্রাণিসম্পদ খাত। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৪০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই চারটি খাতের সঙ্গে যুক্ত এবং জিডিপিতে কৃষির অবদান এখনো প্রায় ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। গ্রামীণ অর্থনীতির প্রায় সম্পূর্ণটাই এই খাতগুলোর ওপর নির্ভরশীল; দেশের মোট দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রামে বসবাস করে এবং তাদের জীবিকা সরাসরি কৃষিনির্ভর। একই সঙ্গে জাতীয় পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত থেকে  দৈনিক প্রোটিনের বড় অংশ আসে, যেখানে মোট প্রাণিজ প্রোটিনের প্রায় ৬০ শতাংশের জোগান দেয় মাছ ও পশুপালন। এত বড় একটি জনগোষ্ঠী ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও, এই খাতগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উন্নয়নের পথে মৌলিক প্রতিবন্ধকতা হয়ে আছে। এই সমন্বয়হীনতার ফলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে ফাঁক তৈরি হয়, সম্পদের অপচয় ঘটে এবং কৃষক প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। সুতরাং সমন্বয়ের এই সংকট কেবল প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতা নয়, বরং এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা। যার প্রভাব কৃষি উৎপাদনশীলতা, পুষ্টি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাবে পড়ছে। খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এই মন্ত্রণালয়গুলো আলাদাভাবে গড়ে উঠেছে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে, ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনকে সামনে রেখে। প্রশাসনিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজস্ব লক্ষ্য ও কর্মপরিধি নিয়ে বিকশিত হয়েছে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা যতটা বেড়েছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি ততটা গড়ে ওঠেনি। বাস্তবে প্রায়ই দেখা যায়, এক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে অন্য মন্ত্রণালয়ের নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গির অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়, তথ্য আদান-প্রদানের গতি ও পরিধি সীমিত থাকে এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে একই ধরনের কর্মসূচিতে পুনরাবৃত্ত ব্যয় ঘটে। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, কৃষি সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রকল্পের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয় মূলত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের দুর্বলতার কারণে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে অন্য মন্ত্রণালয় যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। এর ফল হিসেবে যে কৃষি ব্যবস্থাটি হওয়া উচিত ছিল সমন্বিত, বহুমাত্রিক ও কৃষকবান্ধব তা ধীরে ধীরে খণ্ডিত ও বিভাজিত রূপ ধারণ করেছে। যেখানে নীতি, বাস্তবায়ন ও মাঠপর্যায়ের সেবার মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে একজন মন্ত্রীর অধীনে খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত,  নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নীতিগত স্তরে সমন্বয়ের বাস্তব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে এবং একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোকে একীভূত দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিচালনার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। নীতিনির্ধারণী মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এতে পরিকল্পনা গ্রহণ, বাজেট বণ্টন এবং অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা বলছে, কেবল একজন মন্ত্রীর নিয়োগই সমন্বয়ের স্বয়ংক্রিয় নিশ্চয়তা দেয় না। কারণ সরকারি ব্যবস্থায় দৈনন্দিন কার্যক্রম, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সেবা প্রদান মূলত পরিচালিত হয় সচিবালয়, অধিদপ্তর ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তর একাধিক ধাপে বিভক্ত। বিভিন্ন প্রশাসনিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নীতিগত নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে গড়ে উল্লেখযোগ্য সময় লাগে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের সময় মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হয়। যদি এই স্তরগুলোতে পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে না ওঠে এবং তথ্য আদান-প্রদানের প্রবাহ কার্যকর না হয়, তাহলে ওপরের স্তরের সদিচ্ছা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনেক সময় প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনে না। ফলে সমন্বয়ের সাফল্য নির্ভর করে কেবল নেতৃত্বের ওপর নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার আচরণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর।

বাংলাদেশের কৃষি কাঠামোর আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বাণিজ্যিক কৃষি ও খোরপোষভিত্তিক কৃষির মধ্যে বিদ্যমান দ্বন্দ্ব, যা দীর্ঘদিন ধরে কৃষি উন্নয়নের ভারসাম্যকে ব্যাহত করে চলেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ কৃষক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক শ্রেণি, যাদের জমির পরিমাণ এক হেক্টরেরও কম এবং যাদের উৎপাদন প্রধানত পারিবারিক চাহিদা পূরণকেই কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। এই কৃষকগোষ্ঠীর অধিকাংশের আধুনিক প্রযুক্তি, মানসম্মত বীজ, সেচ সুবিধা ও আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত। অন্যদিকে, বড় কৃষিভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানিমুখী উদ্যোগগুলো তুলনামূলকভাবে সহজেই নীতিগত সুবিধা, ভর্তুকি, কর ছাড় এবং প্রণোদনার সুযোগ পেয়ে থাকে। ফলে বাজারে তারা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়। গবেষণায় দেখা যায়, কৃষি খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অংশ বৃহৎ উদ্যোগকেন্দ্রিক হওয়ায়, ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে ধীর। এই দুই ধারার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির অভাবের কারণে, আত্মকর্মসংস্থাননির্ভর কৃষি ও বৃহদায়তন শিল্প উভয় ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত টেকসই উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।  যার প্রভাব গ্রামীণ আয়বৈষম্য, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে খাদ্য ও কৃষিসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করে একটি স্থায়ী আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী। বর্তমানে দেশে কৃষি খাতের জন্য বরাদ্দকৃত বার্ষিক বাজেট প্রায় ৪০০০ কোটি টাকা, যার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সমন্বিত মনিটরিং অপরিহার্য। এই টাস্কফোর্স নিয়মিতভাবে নীতি, বাজেট বরাদ্দ, ভর্তুকি, আমদানি ও রপ্তানি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করতে পারে, যাতে কৃষক, উৎপাদক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকেই সমন্বিত তথ্য ও সহায়তা পায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষি প্রকল্প মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনার সঙ্গে মিলছে না বা পুনরাবৃত্ত ব্যয়ের শিকার হচ্ছে, যা মূলত আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবের কারণে। এই টাস্কফোর্স যদি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে তাহলে কোথায় নীতিগত ব্যত্যয় হচ্ছে, কোথায় স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে এবং কোন ক্ষেত্রে সম্পদের অপচয় ঘটছে সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ তৈরি করা সম্ভব। ফলে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যনিরাপত্তা সম্পর্কিত নীতিমালা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা বৃদ্ধি পাবে, ক্ষুদ্র ও বড় উভয় ধরনের উৎপাদকই পরিকল্পনার সুবিধা ভোগ করতে পারবে এবং দেশের সামগ্রিক খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও দৃঢ় হবে। এখানে একটি বাস্তব উদাহরণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একজন কৃষক যদি সমন্বিত কৃষিকাজ করতে চান, যেমন ফসলের সঙ্গে মাছ চাষ এবং গবাদিপশু পালন একসঙ্গে, তখন তাকে আলাদা আলাদা অফিসে যেতে হয়। প্রতিটি সেবা পেতে তাকে কৃষি অফিস, মৎস্য অফিস এবং প্রাণিসম্পদ অফিসে পৃথকভাবে সময় ব্যয় করতে হয়, যার ফলে সময়, অর্থ এবং শ্রমের উল্লেখযোগ্য অপচয় ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা বা প্রযুক্তি গ্রহণের সুযোগ থেকেই সরে দাঁড়ান। বিভিন্ন সরকারি জরিপ ও মাঠ পর্যায়ের গবেষণা অনুযায়ী, সময় ও যাতায়াতের জটিলতার কারণে কৃষকেরা আধুনিক বীজ, সেচ সুবিধা, পশুপালন প্রশিক্ষণ এবং মাছ চাষের প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। এর ফলে সরকারের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা এবং ভর্তুকির সুবিধা মাঠ পর্যায়ে পূর্ণরূপে পৌঁছায় না। এ ছাড়া, কৃষকের উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং উৎপাদিত পণ্যের মান ও পরিমাণও প্রত্যাশিত সীমার মধ্যে থাকে না। সুতরাং সমন্বিত সেবাকেন্দ্র না থাকায় কৃষকের সময় ও শ্রম নষ্ট হচ্ছে, প্রযুক্তি গ্রহণ সীমিত হচ্ছে এবং সম্পূর্ণ প্রণোদনার সুফল তাকে পৌঁছাচ্ছে না, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ওপর দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 

এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে এক জানালা এক সেবা ভিত্তিক কৃষিসেবা ব্যবস্থা। যদি একটি ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত কৃষিসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, যেখানে কৃষি, মৎস্য, খাদ্য ও প্রাণিসম্পদ সব ধরনের সেবা একসঙ্গে পাওয়া যাবে, তাহলে কৃষকের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং প্রশাসনিক দক্ষতাও অনেক উন্নত হবে। এতে কৃষকের সময়, শ্রম ও যাতায়াতের খরচ কমবে এবং সেবাগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এ ধরনের সমন্বিত কৃষিসেবা কেন্দ্র স্থাপনের ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সেবা গ্রহণের হার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও সমন্বিত সেবা মডেলের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা, ফসল ও মাছের মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সরকারি প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাচ্ছে। বাংলাদেশে এই মডেল বাস্তবায়িত হলে কৃষকের প্রযুক্তি গ্রহণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রণোদনার সুযোগ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। সুতরাং এক জানালা এক সেবাভিত্তিক সমন্বিত সেবাকেন্দ্র শুধু প্রশাসনিক কাজ সহজ করবে না, বরং দেশের কৃষি উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র ও বড় উভয় ধরনের কৃষকের কল্যাণে দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বীকার করতেই হবে, সমস্যার মূল জায়গাটি কাঠামোর চেয়েও সংস্কৃতিতে বেশি নিহিত। বর্তমানে আমাদের দেশে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য খাতের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়হীনতার একটি বড় কারণ হলো, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দায়বদ্ধতার অভাব। আলাদা আলাদা বিভাগ রেখে কেবল একজন মন্ত্রী নিয়োগ দিলে প্রকৃত সমন্বয় তৈরি করা সম্ভব নয়, কারণ বাস্তবায়ন ক্ষেত্র, সচিবালয় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও যৌথ কাজের সংস্কৃতি না থাকলে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ বিলম্ব এবং কার্যকারিতার ঘাটতি দেখা দেয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষি প্রকল্প মাঠ পর্যায়ে নীতিমালার সঙ্গে সঠিক মিল পাচ্ছে না, যা মূলত প্রশাসনিক কাঠামো এবং সংস্কৃতির দুর্বলতার ফল। ফলে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত বাজেট এবং প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় না। প্রয়োজন একটি এমন সিস্টেম, যেখানে নীতিনির্ধারণ থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব স্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়বদ্ধতা এবং যৌথ কাজের সংস্কৃতি গড়ে উঠবে, তথ্য ও সেবা প্রবাহ স্বচ্ছ হবে এবং কর্মকর্তারা একে অপরের কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করবে। এই সংস্কার যদি আমরা আমাদের নীতিনির্ধারণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার ভাবনার কেন্দ্রে আনতে পারি, তাহলে কৃষিতে সমন্বয় আর কাগুজে প্রত্যাশা হিসেবে থাকবে না।  বরং এটি হয়ে উঠবে কার্যকর, স্থায়ী এবং বাস্তব উন্নয়নের ভিত্তি। যা ক্ষুদ্র ও বড় উভয় ধরনের কৃষকের উৎপাদনশীলতা, আয় বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

লেখক: কৃষিবিদ ও কলামিস্ট চেয়ারম্যান, ডিআরপি ফাউন্ডেশন

sarker69@gmail.com