কৃষক কার্ডে ক্ষুদ্র কৃষকদের নগদ সহায়তা দেবে সরকার

ক্ষুদ্র কৃষকদের উৎপাদনে সহযোগিতা করার জন্য সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে কৃষকের ফসল উৎপাদনে নগদ সহায়তা প্রদান করবে। এটি সম্পূর্ণ একটি আলাদা কার্ড হবে কৃষকের নামে, যার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ডের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে অনেকটা ফ্যামিলি কার্ডের আদলেই পরিচালিত হবে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কৃষক কার্ড চালু সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমিন-উর রশীদ, কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদ-সহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, প্রথমেই সরকার একটি প্রি-পাইলটিং কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে ৯টি ইউনিয়নে ১৮শ থেকে ২ হাজার কৃষি কার্ড বিতরণ করবে। প্রাথমিক অবস্থায় এই কার্ডগুলো পাবেন একেবারেই প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক।

এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব রফিকুল ই মোহামেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষি কার্ড সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। ক্ষুদ্র কৃষককে কৃষি উৎপাদনের জন্য সহযোগিতা দেওয়া হবে এই কার্ডের মাধ্যমে। ফ্যামিলি কার্ডের মতোই এখানেও কৃষককে নগদ সহযোগিতা দেওয়ার চিন্তা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি কার্ড নিয়ে প্রথমেই প্রি-পাইলটিং করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখানে ১৮শ থেকে ২ হাজার কৃষককে পরীক্ষামূলকভাবে কার্ড প্রদান করা হবে। কার্ডে সহায়তা প্রদানের মধ্য দিয়ে তাদের উৎপাদনে সহযোগিতা করা হচ্ছে সরকারের মূল লক্ষ্য। 

ফ্যামিলি কার্ড সাধারণত পরিবারের নারীদের প্রাধান্য দিয়ে বাস্তবায়ন করা হলেও কৃষি কার্ড পুরুষ কৃষকদের নামে করা হবে বলে কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। একই পরিবারে একসঙ্গে কৃষি কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড থাকতে পারে এবং তাতে প্রক্রিয়াগত কোনো ত্রুটি থাকবে না বলে জানা যায়। তবে চলতি মাসেই এ সংক্রান্ত আরও একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কৃষক কার্ডের বিষয়ে কথা বলেন, কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশীদ। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের মধ্যে কৃষক কার্ড চালু করা সম্ভব হবে। পাইলটিং শেষে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ৯টা উপজেলার ৯টা ইউনিয়নে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা হবে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক ও একেবারে ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। শুরুতে প্রান্তিক কৃষকদের কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যা অনেকটা ফ্যামিলি কার্ডের আদলে পরিচালিত হবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষিজমি, কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন জাতের তথ্যকে একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থার আওতায় আনা। ফলে কৃষকরা সহজে সরকারি সহায়তা পাবেন এবং সরকারের কাছেও কৃষি খাতের সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য থাকবে।

কৃষকরা কি বিনামূল্যে সার ও বীজ পাবেন এই কার্ডে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে একেবারে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে কি না তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

যারা সরাসরি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত তারাই এই প্রকল্পে কৃষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রকৃত ও সক্রিয় কৃষকদের একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।