ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের আঁচ সবচেয়ে বেশি পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতে। একদিকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি আমদানির অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে বিশ্ববাজারে হুহু করে বাড়তে থাকা দাম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে নতুন সরকারের শুরুতেই এ খাতে ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে সরকার।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বড় ধরনের বিপর্যয় না হলে আগামী মাস অর্থাৎ, এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানিতে তেমন কোনো সংকট হবে না। পাশাপাশি জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। তবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে বড় উদ্বেগ হলো, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম লাফিয়ে বাড়তে থাকা।
এরই মধ্যে তেল এবং গ্যাস দুটোর দামই বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। এতে সরকারের আমদানি ব্যয় বাড়বে। সরকারের এই মুহূর্তে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনা না থাকায় বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে ভর্তুকির চাপ অনেক বেড়ে যাবে। এমনিতেই ভর্তুকি দিতে গিয়ে সরকারের অবস্থা কাহিল। নতুন করে ভর্তুকির চাপ নেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের। সে ক্ষেত্রে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বাড়তে পারে বিদ্যুতের লোডশেডিং।
ভর্তুকির বড় চাপের শঙ্কা : যুদ্ধের কারণে এলএনজির পাশাপাশি ক্রুড অয়েলের দামও বেড়ে গেছে। গত মাসের এই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ দাম বেড়ে ব্যারলপ্রতি দাম এখন প্রায় ৮৪ ডলার। যুদ্ধ সহসা শেষ না হলে এই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশের জ্বালানি তেলে প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলার বাড়লে বছরে অতিরিক্ত কয়েক হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় এলসি খোলা কঠিন হওয়ার পাশাপাশি অস্থিরতা বাড়তে পারে ডলারের বাজারে। সঙ্গে বাড়তে পারে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ।
হামলার কারণে কাতারের বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ফলে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এলএনজির দাম এরই মধ্যে ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি পড়বে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে চলতি অর্থবছরে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভর্তুকি রেকর্ড করতে পারে বলে শঙ্কা খাতসংশ্লিষ্টদের।
পেট্রোবাংলা সূত্রমতে, গত বছর ১০৯টি কার্গো এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৩ হাজার ৮৭৭ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। আগের বছর ৮৬টি কার্গোর জন্য ব্যয় ছিল ৩ হাজার ২২ দশমিক ৩২ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে ৮৫৫ মিলিয়নের বেশি ডলার। চলতি বছর ১১৫টি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি কার্গো আসার কথা। আমদানি বাড়ায় খরচ এমনিতেই বাড়বে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গড় এলএনজি মূল্য প্রতি এমএমবিটিইউ ১৮.৪৩ ডলারে উঠে যায়, যা ২০২৪ সালে নেমে আসে ১২.৮৪ ডলারে। ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৩.৫২ ডলার এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে দাঁড়ায় ১১.০২ ডলারে। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ১২ ডলারে এলএনজি কিনেছিল। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজির দাম পড়ছে ৯ থেকে ১০ ডলার। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এলএনজির দাম ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। যুদ্ধ বন্ধ না হলে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামেই এলএনজি কিনতে হবে বাংলাদেশকে।
ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশবিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর। গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে বিশ^বাজারে। এ বাড়তি দাম বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশ^বাজারে এ সংকট দীর্ঘায়িত হলে ঝুঁকি আরও বাড়বে। তখন ডলার নিয়েও সংকট তৈরি হবে। বাড়বে ভর্তুকির চাপ।
তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প উপায় হলো খোলা বাজার থেকে কেনা। কিন্তু সেখানেও দাম বাড়ছে। এ দাম বেড়ে যদি ২০ ডলার পর্যন্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশ চাহিদামতো এলএনজি কিনতে পারবে না। তখন গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিং হবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর চাপ বাড়ায় যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট। সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে এশিয়ার বাজারে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের এলএনজি খাতে ভর্তুকি ছিল প্রায় ৯ হাজার কোটি আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ছিল ৬২ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ ভর্তুকি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। খাতসংশ্লিষ্টদের আগে ধারণা ছিল, এই ভর্তুকি ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে তা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা বিদ্যুৎ বিভাগের।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৫ বছরে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জানিয়েছে, আগামী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না, সিস্টেম লস কমিয়ে খরচ সমন্বয় করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সিস্টেম লস কমিয়ে লোকসান সামলানো সম্ভব নয়। পরিস্থিতি সামলাতে ভর্তুকি বাড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
বড় চিন্তা গ্যাস সরবরাহে : জ্বালানি তেল নিয়ে এই মুহূর্তে সংকট না থাকলেও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই উদ্বেগের মূল কারণ হলো দেশে এলএনজি মুজদের অবকাঠামো নেই। আবার কাতার এলএনজি উৎপাদন স্থগিত করেছে। এর সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাবেও সংকট তৈরি হয়েছে।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদলুর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে এলএনজি ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমেছে ৮৬ শতাংশ। উভয় প্রান্তে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকে আছে।
দেশে শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় সরবরাহ ছিল ২৫২ কোটি ঘনফুট, যা আগের বছরের তুলনায় কম। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে কমছে। ফলে ঘাটতি পূরণে বাড়ছে আমদানির এলএনজি নির্ভরতা। বর্তমানে মোট সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে এলএনজি থেকে।
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টন আসে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়। ২০২৫ সালে কাতার এনার্জি ৪০টি কার্গো সরবরাহ করেছে। ওমান থেকেও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কার্গো আসে। পাশাপাশি স্পট বাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা হয়, যেখানে সরবরাহকারী হিসেবে রয়েছে ভিটল, পেট্রোচায়না ইন্টারন্যাশনাল, টোটালএনার্জিস, পস্কো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশনসহ বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি। কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় সমস্যায় পড়বে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কাতারকে চিঠি দিয়েছে। কাতার সরাসরি নাকচ না করলেও বাতিল হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের নয়টি কার্গোর মধ্যে ছয়টির উৎস কাতার। এর মধ্যে চারটি কার্গো বিরোধপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু ১৫ ও ১৮ মার্চ কাতার থেকে আসার কথা থাকলেও সেগুলো আটকে গেছে। এজন্য দুই কার্গো স্পট মার্কেট থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার টেন্ডার ডাকা হলেও চুক্তিবদ্ধ ২৪ কোম্পানির কাছ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। গতকাল বুধবার আবার টেন্ডার ডাকা হয়েছে, যা আজ খোলা হবে।
পেট্রোবাংলার একজন পরিচালক বলেন, হয় কোম্পানিগুলোর কাছে এলএনজি নেই অথবা তারা তা ধরে রেখেছে যাতে দাম আরেকটু বাড়ুক। গতকাল স্পট মার্কেটে এলএনজির ইউনিটপ্রতি দাম ২৫ ডলার উঠেছে। গত মাসেও যা ছিল ১২-১৩ ডলার।
জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, কোনো একটি কার্গোর সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে দেশে গ্যাস সংকট দ্রুত তীব্র আকার নিতে পারে। কারণ, পাইপলাইনের দেশীয় গ্যাস উৎপাদন আগের তুলনায় কম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যে স্বল্পচাপের সমস্যা প্রকট হয়েছে। বহু এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না, শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আমদানি করা যেসব কার্গো ১৫ মার্চের মধ্যে আসার কথা, সেগুলো ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ১৫ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে দুয়েকটা কার্গো নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি কীভাবে বিকল্প উপায়ে এলএনজি আমদানি করা যায়।’
তিনি বলেন, বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে। পরের কার্গোগুলো অস্ট্রেলিয়া দুটি, আফ্রিকা থেকে একটি আসবে। সেগুলোর সূচি এখন পর্যন্ত ঠিক রয়েছে। আগামী মাসে ফের কাতার থেকে কার্গো আসার কথা রয়েছে।
‘সমস্যা হচ্ছে স্পট মার্কেটে এলএনজি মিলছে না। কারণ হতে পারে দুটি। এক আমাদের এফএসআরইউ যেহেতু ফিক্সড, তাই কখন কোন জাহাজ আসবে, তা সূচি মেনে চলতে হয়। কারণ, একটা জাহাজ আটকে রাখলে ৭৮ হাজার ডলার দিনপ্রতি জরিমানা গুনতে হয়। এজন্য সূচিতে ব্যাঘাত ঘটলে গ্যাস সরবরাহ বিঘিœত হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব কার্গো আসছে, সেগুলো ১৫ মার্চের মধ্যে নাও পৌঁছাতে পারে। এমনও পারে যে, ওদের কাছে বিকল্প কোনো সোর্স নেই, সবই কাতার থেকে। এমনকি এক্সিলারেট, আরামকো যে এলএনজি দিচ্ছে, যা সেটাও কিন্তু কাতার থেকেই’ বলেন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান।
গ্যাস রেশনিং, কমবে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন : এলএনজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে বিকল্প হিসেবে গ্যাস রেশনিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রেশনিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন ১৮-২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করা হবে। এই গ্যাস ১৫-১৮ মার্চ কার্গো না আসার কারণে যে ঘাটতি হবে তখন সরবরাহ করা হবে। বিদ্যুৎ থেকে ৫ কোটি ঘনফুট, বাকিটা সার-করাখানার অংশ থেকে কাটা হবে। এখন বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুতে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে ৮৫ কোটি ঘনফুট। বেশি গরম না পড়ায় লোডশেডিং নেই। কিন্তু ৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ করা হলে ৫০০-১০০০ মেগাওয়াট উৎপাদন কম হবে। ফলে লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামলাতে হবে বিদ্যুৎ বিভাগকে।
বোরো মৌসুম চলছে। সারের চাহিদা থাকায় তিনটি কারখানা চালু রাখা হয়েছে। এতে গতকাল দেওয়া হয়েছে ১৭.৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। রেশনিংয়ের কারণে সব কারখানা বন্ধ রেখে শুধু শাহজালাল সার কারখানা চালু রাখা হবে।
জ্বালানি তেল : বাংলাদেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন। এর প্রায় পুরোটাই আমদানি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক হাজার কোটি টাকা করে মুনাফা করছে। সংস্থাটির মতে, প্রতি ব্যারল তেলের দাম ৭২ ডলার অতিক্রম করলেই লোকসান গুনতে হয়। চলতি সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬৭ ডলার থেকে গত মঙ্গলবার রাতে ৮৪ ডলারে পৌঁছেছে। গত বছর ফেব্রুয়ারির চেয়ে যা ২৬ শতাংশ বেশি।
বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ তেল মজুদ রয়েছে, তাতে দাম বাড়ার শঙ্কা নেই। জ্বালানি সরবরাহে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই বলে জানিয়েছেন সরবরাহকারীরা। যুদ্ধ পরিস্থিতি নজরে রেখে তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।
নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে চলতি মাসে ১৪ থেকে ১৫টি কার্গোর এলসি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এপ্রিলেও একই পরিমাণ জ্বালানি আমদানির প্রস্তুতি রয়েছে। এর মধ্যে গত সোমবার পর্যন্ত সাতটি জাহাজের এলসি সম্পন্ন হয়েছে।