পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি লাইভ টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তরুণ ক্রিকেটার ইরফান খান নিয়াজির বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন। পাকিস্তান দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা চলাকালে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমান অধিনায়ক সালমান আলি আগার নেতৃত্বও সমালোচনার মুখে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে নতুন অধিনায়ক নিয়োগের পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে।
একটি টিভি শোতে আফ্রিদিকে প্রশ্ন করা হয়- ইরফান খান নিয়াজিকে ভবিষ্যৎ অধিনায়ক হিসেবে ভাবা যেতে পারে কি না? জবাবে ইরফানের বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলে শহীদ আফ্রিদি বলেন, ‘নিয়াজিকে তো আপনারা আগেও খেলিয়েছেন। তার বয়স আসলে কত? এখন যে নতুন বয়স বলা হচ্ছে সেটা কী?”
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তখন জানান যে ডানহাতি ব্যাটার ইরফান খান নিয়াজির অফিসিয়াল বয়স ২৩ বছর। তখন আফ্রিদি হাসতে হাসতে ব্যঙ্গাত্মকভাবে আফ্রিদি বলেন, ‘আচ্ছা… তাহলে তো আমরা ঠিকই আছি! তাহলে আমাদের বয়সও নিশ্চয়ই ৩০–৩৫ বছর!’
২০২৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরফানের টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয়েছিল। ওই বছর পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসের হয়ে তিনি ‘ইমার্জিং প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ পুরস্কার জিতে নেন। এখন পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের হয়ে ১৪টি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২৭ গড় এবং ১৩৫ স্ট্রাইক রেটে করেছেন মাত্র ১৮৯ রান! সর্বোচ্চ ইনিংস ৩৭ রানের।
২০২৫ সালের শেষ দিকে পাকিস্তান শাহিনস দলের অধিনায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ইরফান। এশিয়া কাপ রাইজিং স্টারস টুর্নামেন্টের ফাইনালে বাংলাদেশকে হারিয়ে শিরোপা জেতে পাকিস্তান শাহিনস। তবে বয়স জালিয়াতি প্রসঙ্গে আফ্রিদির মন্তব্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ নিজের খেলোয়াড়ি জীবনেও বয়স নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন শহীদ আফ্রিদি।
১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করার সময় তার অফিসিয়াল বয়স ছিল ১৬ বছর। বহু বছর পর নিজের আত্মজীবনীতে আফ্রিদি স্বীকার করেন যে, তার সরকারি জন্মতারিখ সঠিক ছিল না এবং প্রকৃত বয়স তখন বেশি ছিল। তাই পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা এমন মন্তব্যের জন্য আফ্রিদিকেও ধুয়ে দিচ্ছেন।