স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন মাইলস্টোনে নিহত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা ও নীলফামারীর মেয়ে মাহেরীন চৌধুরীকে দেওয়া হচ্ছে মরণোত্তর এই পদক।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

দুপুরে সরকারের অতিরিক্ত সচিব (কমিটি ও অর্থনৈতিক) মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সেখানে মরহুমা মাহেরীন চৌধুরীকে সমাজ সেবা ও জনসেবায় স্বাধীনতা পদক পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

মাহেরীন চৌধুরী নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকার বগুলাগাড়ি গ্রামের মেয়ে ও মো. মনসুর হেলালের স্ত্রী। মাহেরীন নিহত হবার পূর্বে স্থানীয় জলঢাকার বগুলাগাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্বাহী কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা পদেও চাকুরি করতেন। পারিবারিক পরিচয়েও তিনি ছিলেন একজন পরিচিত মুখ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাতিজি। তার বাবা মহিতুর রহমান জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই। দাদি রওশানারা চৌধুরী ছিলেন জিয়াউর রহমানের খালা।

গত বছর ২০২৫ সালের ২১ জুলাই (সোমবার) ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালে একটি ভবনে প্রশিক্ষণ বিমান আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় ভবনে। ধোঁয়া আর আতঙ্কে চারপাশ যখন হাহাকার, তখন ও শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত ছিলেন মাহেরীন। তিনি ২০ জন শিক্ষার্থীর জীবন বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু একপর্যায়ে নিজেই আগুনে আটকে পড়েন। শরীরের অধিকাংশ দগ্ধ হয় তার। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় নেওয়া হয় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে নিজের দায়িত্ব থেকে একচুল নড়েননি তিনি। তিনি দেশের মানুষের চোখে সাহসিকতার প্রতীক হয়ে দেখা দেন। তার মরদেহ ঢাকা থেকে নিয়ে এসে জলঢাকার বগুলাগাড়ীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।

মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার আমার স্ত্রীকে মরণোত্তর পদক দিয়ে সম্মান জানিয়েছেন সেটি আমার জন্য ভালো লাগার। আমার স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।