সবচেয়ে দীর্ঘ যাদের রোজা

সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সব ধরনের পানাহার ও যৌনসঙ্গ থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। পৃথিবীতে বসবাসরত সবার জন্য এক সৌরদিন চব্বিশ ঘণ্টা হলেও স্থানভেদে দিন ও রাতের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন। যেসব স্থানে দিনের পরিমাণ বেশি তাদের রোজা দীর্ঘ আর যাদের দিনের পরিমাণ কম তাদের রোজার সময় অপেক্ষাকৃত কম। সে জন্য একই পৃথিবীতে বসবাস করলেও স্থানভেদে মুসলমানদের রোজার দৈর্ঘ্য। সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখেন আইসল্যান্ডের মুসলমানরা।

আইসল্যান্ড ইউরোপ মহাদেশের একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। এখানে ১ হাজার ৩০০ মুসলমান বাস করেন। মোট জনসংখ্যার তুলনায় তা অনেক কম, মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। সংখ্যায় অল্পসংখ্যক মুসলমানই এই দীর্ঘ রোজা রাখেন। তারা প্রতি বছর প্রায় বাইশ ঘণ্টা রোজা রেখে ইসলামের অন্যতম ফরজ আদায় করেন। এখানে মধ্যরাতে সূর্য ডোবে এবং দুই ঘণ্টা পরেই আবার সূর্য ওঠে। এই দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাদের তারাবি আদায় এবং সাহরি সম্পন্ন করে প্রস্তুতি নিতে হয় পরবর্তী রোজার।

রোজা রাখার সময়সূচি সূর্য উদয় এবং অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে, যেসব দেশে সূর্য অস্ত যায় না অথবা মাত্র কিছু সময়ের জন্য অস্ত যায়, সেসব দেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য তিনটি সমাধান বাতলে দিয়েছেন ইসলামী স্কলাররা।  তবে যেকোনো একটি উপায় অনুসরণ করতে হবে। প্রথমত, তারা নিকটতম কোনো দেশের সূর্যাস্তের সময় অনুসারে ইফতার করতে পারেন, যেখানে দিনের স্থায়িত্ব দুই ঘণ্টার কম। দ্বিতীয়ত, তারা নিকটবর্তী কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সময় অনুসরণ করতে পারেন অথবা সৌদি আরবের সময় অনুযায়ী ইফতার করতে পারেন।

তৃতীয়ত, তারা স্থানীয় সময় অনুযায়ী রোজা পালন করতে পারেন। আইসল্যান্ডের মুসলমানরা রাজধানী রেইকিয়াভিকের স্থানীয় সময় অনুসরণ করেন। এর ফলে বাইশ ঘণ্টা পানাহার থেকে বিরত রাখার মতো কঠিন শারীরিক ও মানসিক সংযমের পরীক্ষা দিতে হয় তাদের। তবে তারা এটি পালন করেন খুশি মনেই এবং তাদের জন্য আল্লাহর একটি ধৈর্যের পরীক্ষা হিসেবেই।

আইসল্যান্ডের মুসলমানরা কী পদ্ধতিতে রোজা রাখবেন তা নির্ধারণে আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকের দুটি মসজিদের মুসল্লিরা একত্রে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, তাদের দেশের স্থানীয় সময়ের ওপর ভিত্তি করে রোজা রাখবেন এবং ইফতার করবেন। তবে দেশের সবাই এই নিয়ম অনুসরণ করেন না। কেউ কেউ ইউরোপের কিছু দেশের নিয়ম অনুসরণ করেন। তাদের এই নিয়মকেও অনুমোদন করেছে তাদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্তৃপক্ষ। ফলে একই দেশে বসবাসকারী মুসলিমরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে রোজা রাখেন এবং ইফতার করেন।

লেখক : ফিচার রাইটার