নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় বসতঘর থেকে এক নারী ও তার দুই বছরের কন্যাসন্তানের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার সময় মারা গেছেন ওই নারীর স্বামীও। গতকাল শুক্রবার সকালে লাশ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেশী ও পুলিশের ধারণা, স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন ওই ব্যক্তি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামে এমন ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার বলরামচক চৌধুরীপাড়া গ্রামের গৌতম সরকারের ছেলে জয় সরকার (২৭), তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকার (২২) ও তার মেয়ে জিনি সরকার (২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত জয় সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। জয় সরকার তার স্ত্রী বৃষ্টি সরকারকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মারধর ও নানাভাবে মানসিক অত্যাচার করতেন। স্বামীর অত্যাচারে বৃষ্টি সরকার কয়েকবার বাবার বাড়িতে চলে যায়। বারবার স্বামীর অনুরোধে আবার ফিরে আসে। গত বৃহস্পতিবার বৃষ্টি সরকার তার মেয়েক নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতে হঠাৎ জয় সরকার তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান বৃষ্টি সরকার। এরপর নিজের গলায় ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে জয়। তাৎক্ষণিক পরিবারের লোকজন গুরুতর অবস্থায় জয় সরকার ও তার মেয়েকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জয় সরকারের মেয়ে জিনি সরকারকে মৃত ঘোষণা করেন। আর জয় সরকারের অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আত্রাই থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যার পর জয় সরকার নিজই ছুরিকাঘাতে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রথমে ঘাতক জয় সরকারের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। পরে ঘাতক নিজে আত্মহত্যা করায় আরেকটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান ওসি।